আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থীতা
জকসুতে স্বতন্ত্র প্যানেলে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে লড়বেন আইন বিভাগের সিহাব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে লড়তে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সিহাব আলী।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) শহীদ সাজিদ ভবনে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মো. সিহাব আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সন্তান। তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সচিবালয়- যমুনা আন্দোলনসহ সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অগ্রগামী ছিলেন।
মো. সিহাব আলী বলেন,
আমি যেহেতু আইন নিয়ে পড়াশোনা করছি তাই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব আইনি পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য কাজ করবো,আমি আমার নির্বাচনী ইশতেহার খুব শীগ্রই প্রকাশ করবো, তবে সংক্ষিপ্তভাবে বলতে চায় যে ক্যাম্পাসে যেকোনও শারীরিক, মানসিক বা যৌন হয়রানির অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন অভিযোগ কমিটি গঠন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ সেল গঠন করবো। ক্যাম্পাসে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করবো।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় প্রার্থীরা যতই ভালো কিছু করতে চান, দলীয় বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক উদ্যোগই বাস্তবায়ন করতে পারেন না। কারণ তারা কোনও না কোনও দলের নির্দেশনা বা স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারেন না। কিন্তু আমি ভিন্ন। আমি কোনও দলের ব্যানারে নয়, সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে আপনাদের ভোটে নির্বাচন করছি। তাই আপনাদের কাছে আমার অঙ্গীকার স্পষ্ট, আমি কারও দলের স্বার্থ নয়, কেবলমাত্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবো। আপনাদের অধিকার, আপনাদের সমস্যা ও আপনাদের প্রত্যাশাই হবে আমার একমাত্র দিকনির্দেশনা। সর্বোপরি ক্যাম্পাসে আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।
তিনি বলেন, আমি চাই একটি আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব জকসু গড়ে তুলতে। যেখানে সিদ্ধান্তগুলো হবে শিক্ষার্থীদের মতামতকে কেন্দ্র করে, এবং প্রত্যেকটি পদক্ষেপ হবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সমষ্টিগত স্বার্থে।
তিনি আরও বলেন আমি আশা করি— জকসু হবে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বলার সুযোগ করে দেবে, তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করবে এবং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
মনোনয়ন পত্র নেয়ার পর আমার দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে— এখন আমি চাই শিক্ষার্থীদের আস্থা, বিশ্বাস ও প্রত্যাশার জায়গায় দাঁড়িয়ে কাজ করতে।
এর আগে, গত ৫ নভেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৩ ও ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়নপত্র বিতরণ চলবে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৯ ও ২০ নভেম্বর বাছাই, ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৪–২৬ নভেম্বর আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে। ২৭ ও ৩০ নভেম্বর প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট এবং ৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে, যা পরদিন (৯ ডিসেম্বর) প্রকাশ করা হবে।এরপর ৯ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নির্বাচনী প্রচারণা। ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ ও সেদিনই ভোট গণনা সম্পন্ন হবে। ২২ থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























