যুদ্ধবিরতির পর ফের আদালতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
রোববার নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিচার শুরু
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার থেকে এ মামলার শুনানি পুনরায় চালু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির আদালত কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (এপ্রিল) এক মুখপাত্র জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর দেশজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার পর আদালত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসছে। এর অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুর মামলার শুনানিও পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রোববার থেকে বুধবারের মধ্যে একাধিক দিনে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয় এবং ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
পরবর্তীতে প্রায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এরপর সরকার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করলে রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে বন্ধ থাকা স্কুল, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেয়া হয়। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রমও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে।
ইসরায়েলি আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় সচল হওয়ায় নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২০২০ সালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে, যা ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ এটি প্রথমবারের মতো কোনও ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার নজির।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কাছে তাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়েও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নেতানিয়াহুর বিচার। আদালতের এ কার্যক্রম ইসরায়েলের রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























