টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদে নিয়োগ
৩৩০ আনসারকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
নির্বাচনী দায়িত্ব পেতে টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে ৩৩০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার এক আনসার দলনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাহিনীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) নেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনী দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে দায়িত্ব দেয়ার নামে জনপ্রতি আরও ১ হাজার ১০০ টাকা করে উৎকোচ নেয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত দলনেতা মামুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনী।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন ‘প্রশিক্ষণবিহীন’ ব্যক্তি নির্বাচনী দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় তাদেরও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
দুর্নীতিতে জড়িত যে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেয়া হবে জানিয়ে আনসার বাহিনী আরও জানিয়েছে, রাজধানীর গুলশান এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মৎ শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
বাহিনী জানায়, হাতিরঝিলের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর নিবিড় তদারকি চালিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাও বাধ্যতামূলক। ভুয়া সনদধারী, অযোগ্য বা প্রভাবিত ব্যক্তির মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
উল্লেখ্য, এবারের ভোটের মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে আনসার সদস্যই সাড়ে ৫ লাখের বেশি।
সবার দেশ/কেএম




























