চরম দুর্ভোগে যাত্রী ও চালকরা
ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি চলাচল বন্ধ
ঘন কুয়াশার কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে নদী এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব দ্রুত বাড়তে থাকে। এর ফলে পদ্মা নদীর এ অংশে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। নৌপথের দিকনির্দেশক মার্কিং বাতিগুলো স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় ফেরি চলাচলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। সম্ভাব্য নৌদুর্ঘটনা এড়াতে বাধ্য হয়েই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া—উভয় ঘাটেই আটকে পড়ে শত শত যানবাহন। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র শীতের মধ্যে গাড়ির চালক, সহকারী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রীরা জানান, কখন ফেরি চলাচল শুরু হবে—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িতে বসেই রাত কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই হালকা কুয়াশা দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং সোয়া ৭টার দিকে নদীতে দৃশ্যমানতা বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে আসে। এ অবস্থায় যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সময় থেকে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে এবং নদীতে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনরায় ফেরি চলাচল চালু করা হবে।
শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে।
সবার দেশ/কেএম




























