অবসরের ইঙ্গিত মির্জা ফখরুলের, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ আভাস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চলতি বছরেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এ কাউন্সিল ঘিরেই দলটির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কাউন্সিলের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তার।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল জানান, কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরেই এটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে দলীয় কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মহাসচিব পদে পরিবর্তনের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, নতুন নেতৃত্ব আসার সুযোগ তৈরি হবে। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করব। এরপর অবসর নিতে চাই। আমার বয়স হয়েছে, শারীরিক অবস্থাও আগের মতো নেই।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল স্পষ্টভাবে বলেন, এ ধরনের কোনো প্রত্যাশা তার কখনোই ছিল না। তিনি মনে করেন, তার বর্তমান অবস্থান ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার ফল নয়, বরং রাজনৈতিক পথচলার অংশ।
উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে পাঁচ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে। ১৯৮৮ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন।
সবার দেশ/এফও




























