শিশু হাসপাতালে বিতর্কিত ৬৫ চিকিৎসকের নিয়োগ বাতিল
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নিয়োগ পাওয়া ৬৫ জন চিকিৎসকের চাকরি বাতিল করা হয়েছে। রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম।
এ নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিলো। কোনও ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই গত ৪ জুলাই ৬৫ জন চিকিৎসককে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয়। হাসপাতালের ওয়েবসাইট বা কোনো জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী বলে চিকিৎসক সমাজে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। নিয়োগ বঞ্চিত চিকিৎসকদের দাবি, এ পদগুলোতে অনেক অনারারি চিকিৎসককে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থায়ী করা হয়েছে, যারা কোনো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।
পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম তদন্তের নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠিও পাঠানো হয়। তদন্তে একাধিক অনিয়ম উঠে আসে, যার মধ্যে ছিলো নিয়োগ কমিটির পক্ষপাতমূলক আচরণ, গোপন বিজ্ঞপ্তি, এবং সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া সাজানো।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, নিয়োগ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পরিচালনা বোর্ডে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিগগিরই নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে।
জানা গেছে, এর আগেও ২০২১ সালে একইভাবে ৬০ জন চিকিৎসককে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে পরে স্থায়ী করা হয়েছিলো। এবারও একই কৌশল অনুসরণ করায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ‘জুলাই বিপ্লবের’ আদর্শের সঙ্গে প্রতারণা।
তাদের দাবি, সরকার যখন হাসপাতালের ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ বহন করে, তখন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ প্রতিটি ধাপে সেটি লঙ্ঘন করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নতুন করে ৪২টি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে।
নিয়োগের সারাংশ:
- লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ৬৫ চিকিৎসক নিয়োগ
- তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ায় নিয়োগ বাতিল
- তুন করে ৪২ চিকিৎসক নেওয়ার সিদ্ধান্ত
- নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ
- নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ: পক্ষপাতদুষ্ট প্রক্রিয়া, গোপন বিজ্ঞপ্তি, রাজনৈতিক প্রভাব
সবার দেশ/কেএম




























