দ্বিতীয়বার শুভেন্দুর কাছে পরাজয়
দুর্গেই পতন। ঘরের মেয়ে ঘরেই হারলেন!
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের জন্ম হলো। নিজের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে পরাজিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আর তাকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নিজের আধিপত্য আরও শক্ত করলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শুভেন্দু। এবার সে ধারাবাহিকতায় ভবানীপুরেও জয় তুলে নিয়ে তিনি কার্যত তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক দুর্গেই পতনের বার্তা দিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ভবানীপুরকে ‘বড়বোন’ এবং নন্দীগ্রামকে ‘মেজোবোন’ বলে উল্লেখ করতেন। ২০২১ সালে ‘মেজোবোন’ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন তিনি। এবার ‘বড়বোন’ ভবানীপুরেও একই প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হলেন—তাও আরও বড় ব্যবধানে।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারী প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছেন। অথচ ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতার হার ছিলো মাত্র ১ হাজার ৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে। ফলে এবার ভবানীপুরের ফলাফলকে অনেক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার সকাল থেকে গণনাকেন্দ্রে ছিলো টানটান উত্তেজনা। প্রথম কয়েক রাউন্ডে কখনও মমতা, কখনও শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। সপ্তম রাউন্ড পর্যন্ত মমতা বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে থাকেন বিজেপি প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত ষোড়শ রাউন্ডে গিয়ে মমতাকে ছাড়িয়ে যান শুভেন্দু এবং আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
ভোট গণনার পুরো সময়টিই রাজনৈতিক উত্তেজনায় ভরপুর ছিলো। দুপুরের দিকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের আশপাশে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর ও স্লোগানবাজির অভিযোগও ওঠে।
গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
এটা কোনও নৈতিক জয় নয়, এটি ইমমোরাল ভিক্ট্রি। পুরো নির্বাচন লুট করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো অত্যন্ত জরুরি ছিলো। এ জয় হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দেয়া মানুষদের উৎসর্গ করলাম।
তিনি আরও দাবি করেন, ভবানীপুরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তৃণমূল ভোট পেলেও হিন্দু, শিখ, জৈন ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সমর্থনেই তিনি জয়ী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে এ ফলাফল শুধু একটি আসনের পরাজয় নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতীক। দীর্ঘদিনের তৃণমূল দুর্গে বিজেপির প্রবেশ এবং মমতার ব্যক্তিগত আসনে পরাজয় রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরে শুভেন্দুর এ জয় তাকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী মুখে পরিণত করেছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এটি তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























