বদলে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর যুদ্ধকৌশল
হিজবুল্লাহর ড্রোন আতঙ্কে নাস্তানাবুদ ইসরায়েল
লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর উন্নত ড্রোন সক্ষমতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য। দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব ড্রোনের নজরদারি ও হামলার আশঙ্কায় পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এমনকি দিনের বদলে রাতের অন্ধকারে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারছে না তারা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান নিউজের বরাতে বলা হয়েছে—হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে সীমিত করে ফেলেছে। সামরিক অভিযানের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিকল্পনাই ড্রোন নজরদারির কারণে ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনের বেলায় হিজবুল্লাহর ড্রোন নজরদারি এতটাই সক্রিয় যে সেনা চলাচল, হামলা এবং সরঞ্জাম পরিবহন কার্যক্রম রাতের বেলায় সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে রাতেও পুরোপুরি নিরাপদ থাকতে পারছে না তারা। বেশ কিছু অভিযান মাঝপথে বাতিল করতে হয়েছে বলেও জানিয়েছে কান নিউজ।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার কারণে দখলদার বাহিনীর হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভেতরে ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহ প্রায় ১০০ জন ড্রোন অপারেটর মোতায়েন রেখেছে। এদের মাধ্যমে তারা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনীর অনেক ইউনিটে এখনও পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি পৌঁছায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ এখন এমন আধুনিক ফাইবার-অপটিক ড্রোন ব্যবহার করছে, যা প্রচলিত জ্যামিং ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম। এসব ড্রোনে রেডিও সিগন্যালের পরিবর্তে অত্যন্ত পাতলা অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহার করা হয়। ফলে ইলেকট্রনিক সিগন্যাল শনাক্তকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত বা নিষ্ক্রিয় করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর ড্রোন সক্ষমতাকে ‘বড় হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় ২৩০টি প্রজেক্টাইল এবং ১০০টির বেশি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এতে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























