মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদি ধর্মগুরুদের গণস্বাক্ষর অভিযান
নিউইয়র্কে মুসলিম প্রার্থীর উত্থানে তোলপাড়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনের আগাম ভোটে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি। জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এ মুসলিম প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে তার এ উত্থান ভালোভাবে নিতে পারছেন না অনেকেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মগুরুরা।
টাইমস অফ ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মামদানির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে র্যাবাইরা গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং এতে নিউইয়র্কে ইহুদীবিদ্বেষ বাড়ছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই এক যৌথ চিঠিতে সই করছেন তারা, যাতে ইহুদি ভোটারদের মামদানিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি র্যাবাই ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন—যা মার্কিন ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। এমনকি যারা চিঠিতে সই করছেন না, তাদের নামও আলাদা তালিকায় তুলে ছড়ানো হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনটি শুধুমাত্র নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন নয়; এটি এক অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ধর্মীয় সহাবস্থান ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনারও একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এবারই হয়তো প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নাগরিক নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব পেতে পারেন।
জোহরান মামদানি মূলত শহরের উদারপন্থি ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে সবার জন্য বিনামূল্যে গণপরিবহন, শিশুসেবা কেন্দ্র, এবং প্রায় ১০ লাখ নিউইয়র্কবাসীর বাড়িভাড়া মওকুফের প্রস্তাব। এসব দাবিকে তিনি মানবিক শহর গঠনের ন্যায্য উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছেন।
তবে এসব প্রতিশ্রুতি নিয়েও সমালোচনা থামেনি। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো প্রকাশ্যে মামদানিকে ‘ইসলামপন্থি’ আখ্যা দিয়ে তার প্রস্তাবগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, মামদানির জনপ্রিয়তা আবেগনির্ভর ও বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন এক প্রচারণার ফল।
অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানি শহরের তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সামাজিক বৈষম্য, অভিবাসী অধিকার ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান তার প্রচারণায় বারবার উঠে এসেছে।
আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন। শহরজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে—মামদানি কি পারবেন আমেরিকার এ মহানগরীর ইতিহাস বদলে দিতে, নাকি র্যাবাইদের চিঠি অভিযানে থেমে যাবে তার পথচলা—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
সবার দেশ/কেএম




























