আটকা শতাধিক পর্যটক
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ
টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। টানা বৃষ্টিতে নদ-নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী বসতঘর এবং শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবানের সঙ্গে থানচির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। লামা-আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের রেপারপাড়া, শীবাতলীসহ একাধিক স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে স্থানীয়দের ভ্যানগাড়ি ও নৌকায় করে পারাপার হতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জরুরি সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুমসহ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে নদীপথে যাতায়াত না করার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় থানচির বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। নদীর স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের ওইসব এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় নদীতীর, পাহাড়ের পাদদেশ এবং প্লাবিত সড়কে অপ্রয়োজনে চলাচল না করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
সবার দেশ/কেএম




























