ড. ইউনূসের ‘কিংস তৃতীয় চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘কিংস তৃতীয় চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) লন্ডনের ঐতিহাসিক সেন্ট জেমস প্যালেসে আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে রাজা চার্লস স্বয়ং এ সম্মাননা তুলে দেন।
ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এ পুরস্কার ড. ইউনূসের বিশ্বব্যাপী শান্তি, সামাজিক সমতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
নতুন যুগের সম্মাননা
২০২৪ সালের জুন মাসে রাজা তৃতীয় চার্লস তার সামগ্রিক রাজনীতিমুক্ত সামাজিক দর্শনের অংশ হিসেবে ‘প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন’ উদ্যাপনের লক্ষ্য নিয়ে এ পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এটি মূলত তার ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে পরিচালিত 'দ্য কিংস ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
পুরস্কার প্রবর্তনের পর প্রথম বিজয়ী হিসেবে সম্মানিত হন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। আর দ্বিতীয়বারের মতো এ মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
‘দ্য কিংস ফাউন্ডেশন’ সম্পর্কে
‘দ্য কিংস ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে, যখন চার্লস ছিলেন প্রিন্স অব ওয়েলস। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক ন্যায়বিচার, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ, ও পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়ন কৌশল প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তারা বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।
সম্মাননার তাৎপর্য
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জলবায়ু পরিবর্তন, আর্থ-সামাজিক বৈষম্য ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূসের বিকল্প উন্নয়ন দর্শন—বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংক মডেল, সামাজিক ব্যবসার ধারণা এবং টেকসই অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির কাজ—এ পুরস্কারকে শুধু একক সম্মান নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সময়ে যখন বাংলাদেশে তার ওপর রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসার অভিযোগে মামলা চলছে, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ সম্মান ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিলো।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তের ছবি ও বিবরণ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও দাতা সংস্থাগুলো এ অর্জনকে ড. ইউনূসের ‘নৈতিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে।
বিশেষত বাংলাদেশের রাজনীতি যখন চরম বিভাজনের মধ্যে রয়েছে এবং একজন নোবেলজয়ী নাগরিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এ পুরস্কার একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ও নিরপেক্ষ কূটনৈতিক স্বীকৃতির বার্তাও বয়ে আনছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ পুরস্কার প্রাপ্তি শুধু ব্যক্তি ইউনূসের নয়—এটি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ, বিকল্প উন্নয়ন দর্শন ও আন্তর্জাতিক মানবিক মূল্যবোধের প্রতি একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।
সবার দেশ/কেএম




























