Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:৪৩, ১০ আগস্ট ২০২৫

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি তুঙ্গে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের তারিখ প্রায় চূড়ান্ত

নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ৫, ৮ ও ১২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত করার পথে। শবে বরাত ও রমজানের সময়সূচি বিবেচনায় রেখে নিরাপদ, সুষ্ঠু ও সময়মতো ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের তারিখ প্রায় চূড়ান্ত
ফাইল ছবি

আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের ১৮ কোটি ভোটারের অংশগ্রহণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তাবনা তৈরি করে ফেলেছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ৫, ৮ অথবা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো এক দিন ভোট নেয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারিও ভোটের সম্ভাব্য দিন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ ও কারণ

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা প্রধানত ৫, ৮, ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারিকে ভোটের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন। এর মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে দেশের পূর্ববর্তী ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৪ বার ভোট হয়েছে রোববারে, ৪ বার বুধবার এবং ২ বার সোমবার ও ২ বার বৃহস্পতিবারে। শুক্রবার, শনিবার এবং সোমবারে ভোট হওয়া কমই দেখা গেছে। এ কারণে আগামী নির্বাচনের জন্যও শুক্রবার এবং শনিবার এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে।

তফসিল ঘোষণা ও ভোটের তারিখের সময়সীমা

বাংলাদেশের আগে করা ১২টি সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুসারে, তফসিল ঘোষণার সময় থেকে ভোটগ্রহণের মধ্যে কমপক্ষে ৩৭ দিন এবং সর্বোচ্চ ৬৮ দিন সময় লেগেছে। যদি ভোটগ্রহণ ৫ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়, তবে তফসিল ঘোষণার তারিখ সম্ভাব্য ৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে হতে পারে।

ইসি জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এজন্য ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রমজানের প্রভাব ও সময়সূচি

নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের পর রোজার শুরু পর্যন্ত অন্তত ১০ দিনের ব্যবধান রাখতে চাইছে। এর কারণ, ভোটের দিন কোনও কেন্দ্রে অনিয়ম, হাঙ্গামা কিংবা স্থগিতাদেশের মতো পরিস্থিতির কারণে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা দরকার হতে পারে। এ পুনঃভোটের জন্য সপ্তাহখানেক সময় দরকার। এছাড়া নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠনের জন্য কিছু সময় নেবে। সব মিলিয়ে এ সময় যেন রমজানের আগে শেষ হয়, সে বিষয়ে ইসি খুবই সচেতন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের পবিত্র রমজান মাস ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। তাই ভোটগ্রহণকে রোজার আগে সম্পন্ন করতে হলে কমপক্ষে ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি নাগাদ ভোট নেয়া প্রয়োজন। শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি। সরকার শবে বরাতের আগে নির্বাচন ঘোষণা করবে না বলে ধারণা রয়েছে। তাই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের (১৫ তারিখের মধ্যে) মধ্যে ভোট গ্রহণ করা নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন প্রধান ও সচিবের বক্তব্য

নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রংপুরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ভোট ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রোজার আগে ভোট হবে।’ এছাড়া অন্যান্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ৫ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে উপযুক্ত তারিখ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

সচিব আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা ভোটের সম্ভাব্য পাঁচটি তারিখ নিয়ে কমিশনের সামনে প্রাথমিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশন সভার আলোচনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া হবে।

দেশের নির্বাচন ইতিহাস থেকে কয়েকটি তথ্য

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার এবং জাতীয় পার্টি ২ বার সরকার গঠন করেছে। সংসদের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিন্ন কারণে অনেক নির্বাচনের মেয়াদ পূর্ণ হয়নি।

ভোটার অংশগ্রহণের দিক থেকে:

  • সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে, যেখানে ভোটার অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৮৭ শতাংশ।
  • সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে, যেখানে মাত্র ২৬.৫৪ শতাংশ ভোটার ভোট দেন।

প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, যেখানে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩ আসনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নির্বাচন বর্জন, বিরোধী দল থেকে বিরোধিতা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে ঘিরে নানা ঘটনা ঘটেছে। এসবের মধ্যে কিছু নির্বাচনের সময় ভোট বর্জন ও নির্বাচনে সহিংসতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রস্তুতি ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনকেন্দ্র নির্ধারণ এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণসহ সকল প্রস্তুতি পূর্ণ করতে কাজ চলছে।

বিশেষ করে ভোটের দিন নিরাপত্তা বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল ধাপে কমিশন সতর্কতা অবলম্বন করবে।

সারসংক্ষেপ:

নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ৫, ৮ ও ১২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত করার পথে। শবে বরাত ও রমজানের সময়সূচি বিবেচনায় রেখে নিরাপদ, সুষ্ঠু ও সময়মতো ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। দেশের দীর্ঘ নির্বাচন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারও নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার লক্ষ্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন