Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৫৫, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

সেনানিবাসও হতে পারে সাবজেল: আদালতে হাজিরের প্রস্তুতি

অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের রাখা হতে পারে সাবজেলে

অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের রাখা হতে পারে সাবজেলে
ফাইল ছবি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সেনা হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেনানিবাসের ভেতরেই সাবজেল (উপকারাগার) হিসেবে রাখার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন সাপেক্ষে সেখান থেকেই তাদের আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের আদালতে হাজির করতে হয়। তবে এ ১৫ কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নাকি পুলিশের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে—সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত সেনানিবাসে সাবজেল ঘোষণার কোনো প্রস্তাব ট্রাইব্যুনালে আসেনি। তবে আইন অনুযায়ী আদালতকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, আইনের সাধারণ বিধান অনুযায়ী গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে আদালতে হাজির করতে হয়। এরপর আদালতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। ট্রাইব্যুনাল আইন একটি বিশেষ আইন, যা সংবিধানেও সুরক্ষিত। এ আইনের বিচার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই—সুপ্রিম কোর্টেও নয়, রিটেও নয়।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বলেননি যে সেনা কর্মকর্তারা আটক আছেন। মিডিয়ার খবরের ভিত্তিতে আমরা কোনো পদক্ষেপ নেবো না। যদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তখন অবশ্যই তাদের আদালতে হাজির করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা আসামিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বিকল্পভাবে পুলিশ চাইলে তাদের গ্রেফতার করার সুযোগ দিতে হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে সব কিছুই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হবে।

সূত্র জানায়, সরকার চাইলে যেকোনও স্থাপনাকে কারাগার ঘোষণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আদালতই নির্ধারণ করবেন আসামিদের কোথায় রাখা হবে। এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবন এলাকার দুটি বাড়ি সাবজেল ঘোষণা করে আটক রাখা হয়েছিলো—এ নজিরও বিবেচনায় আছে সরকারের।

উল্লেখ্য, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা দুই মামলাসহ তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ৩০ জন, যাদের মধ্যে ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে।

পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে চাকরিতে, একজন পিআরএলে, আর ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত। সেনাসদরের নির্দেশে ৯ অক্টোবর সকালে ১৪ জন চাকরিতে থাকা কর্মকর্তা ও পিআরএলের একজন স্বেচ্ছায় হাজির হলে তাদের হেফাজতে নেয়া হয়। তবে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ সেনাসদরে হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

সেনাসদর পরদিন সংবাদ সম্মেলনে জানায়, কবীর আহাম্মদ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ। অবসরপ্রাপ্ত নয়জন কর্মকর্তা এখন পুলিশের অধীনে গ্রেপ্তারযোগ্য। চাইলে তারা সেনাসদরে আত্মসমর্পণও করতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনানিবাসে সাবজেল ঘোষণা করা হলে তা হবে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন এক দৃষ্টান্ত—যেখানে সামরিক ও বেসামরিক আইনের সেতুবন্ধন তৈরি করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন