Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

অনিরাপদ কারখানা বন্ধ হওয়া দেশের জন্য কল্যাণকর: প্রেস সচিব

অনিরাপদ কারখানা বন্ধ হওয়া দেশের জন্য কল্যাণকর: প্রেস সচিব
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত এক বছরে ২৫৮টি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরছেন কেউ কেউ। তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টিকে দেখছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তার মতে, যতক্ষণ রপ্তানি বাড়ছে, ততক্ষণ নন-কমপ্লায়েন্ট বা অনিরাপদ কারখানা বন্ধ হওয়া দেশের জন্য খারাপ কিছু নয়—বরং এটি শিল্পের জন্য কল্যাণকর সংকেত।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম দেশের পোশাক শিল্পের গত তিন দশকের পরিবর্তন, কারখানা বন্ধের পটভূমি ও বাস্তব প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

তিনি লিখেছেন, একসময় বাংলাদেশে পাঁচ হাজারেরও বেশি পোশাক কারখানা ছিল। এর অনেকগুলোই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছিল—প্রায়শই এক ভবনে একাধিক কারখানা চালানো হতো, যেখানে শত শত শ্রমিক কাজ করতেন। রানা প্লাজা দুর্ঘটনাই ছিল এ অগোছালো শিল্পায়নের ভয়াবহ উদাহরণ। ২০১০-এর দশকের পর এসব ছোট, অনিরাপদ, এবং কমপ্লায়েন্সবিহীন কারখানার বেশিরভাগই বন্ধ বা স্থানান্তরিত হয়ে যায়।

তিনি আরও স্মরণ করেন, গাজীপুরের অন্ধকার কোণে শত শত স্যান্ডব্লাস্টিং ইউনিট একসময় অবৈধভাবে চলত, যা বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের জন্য বিপজ্জনক কাজ করত। ২০১০-এর দশকের শেষ দিকে কমপ্লায়েন্স ইস্যুর কারণেই সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

প্রেস সচিব তুলে ধরেন, বর্তমানে সক্রিয় কারখানার সংখ্যা দুই হাজারের সামান্য বেশি হলেও আমাদের রপ্তানি এখন চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। ১৯৯১ সালে প্রথমবার গার্মেন্টস রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল। অথচ আজ ইয়াংওয়ান বা হা-মীম গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো একাই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি করছে। শুধু হা-মীম গ্রুপেই প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, গত ২৫ বছরে প্রায় তিন হাজার কারখানা বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়েছে—যার মধ্যে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা, শ্রমিক পরিচালনার বিশৃঙ্খলা এবং অদক্ষতা অন্যতম। কেউ কেউ, যেমন শান্তা গ্রুপ, গার্মেন্টস ব্যবসা ছেড়ে অন্য খাতে চলে গেছে। আবার কেউ বিদেশে স্থায়ী হয়েছে।

তবে তিনি এ বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো নিয়ে অতিরিক্ত শোক প্রকাশকে “রাজনৈতিক ও পৃষ্ঠপোষক স্বার্থের প্রচারণা” হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, বিজিএমইএ’র বিবৃতি পড়ে মনে হয় যেন প্রতিটি কারখানা বন্ধ হওয়াই সরকারের ব্যর্থতা। এরপরই দেখা যায়, তাদের অনুগত কিছু সাংবাদিক একই সুরে হাহাকার করেন, যেন বাংলাদেশের শিল্পই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এমনকি কিছু বামমনা বুদ্ধিজীবীও এ প্রচারণায় যোগ দেন—কিন্তু কেউ খোঁজ নেন না যে এই শ্রমিকরা বড়, উন্নত কারখানায় নতুন চাকরি পেয়েছেন কি না।

তিনি আরও যোগ করেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল প্রায় তিন মিলিয়ন, আর এখন সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে চার মিলিয়নে। অর্থাৎ শিল্প বেড়েছে, ক্ষয় নয়। সমস্যা হলো, অনেকেই ধরে নিয়েছেন তাদেরই একমাত্র বুদ্ধি আছে—আর বাকিরা সবাই আবুল।

শফিকুল আলমের মতে, সময় এসেছে বাংলাদেশকে পরিমাণ নয়, গুণগত মানের শিল্পে মনোযোগী করার। আমাদের দরকার নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক কারখানা। বড় ও কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ,—বলেছেন তিনি।

সবার দেশ/এফও 

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন