দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কড়া বার্তা
সাহরি-ইফতার-তারাবিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সাহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের জানান, রমজানকেন্দ্রিক জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকার বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্য ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে বিপুল সমর্থন রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সে আস্থার মর্যাদা রাখতে সবাইকে সুশাসন ও জবাবদিহির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে প্রভাবমুক্ত ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
রমজান উপলক্ষে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখা, সাহরি-ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি আনার কথাও বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নুর জানান, নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতি—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড—দ্রুত চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কীভাবে দ্রুত শুরু করা যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভায় মতবিনিময় হয়।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বল্পসময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বড় একটি শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময় তা ধারাবাহিকতা পায়। তবে পরবর্তী সময়ে নানা কারণে কিছু বাজারে ছন্দপতন ঘটে।
এ প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমবাজার পুনরায় সক্রিয় করতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ধরনের সফর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়া আগামী ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন নুরুল হক নুর। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক থেকেই জনদুর্ভোগ কমানো, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
সবার দেশ/কেএম




























