Sobar Desh | সবার দেশ মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:১৫, ৬ জুলাই ২০২৬

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

বেনাপোল কাস্টমসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

বেনাপোল কাস্টমসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি
ছবি: সবার দেশ

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা। 

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসে ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা লক্ষমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিলো ৭ হাজার ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজস্ব ঘাটতির পেছনে আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি ও শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি নিরাপদ ও স্বচ্ছ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, ডিজিটাল ওজনস্কেলে কারসাজি, উচ্চ শুল্কের পণ্য কম শুল্কে খালাস, শেড থেকে পণ্য আত্মসাৎ ও ভুয়া এন্ট্রি পাস ব্যবহার করা এবং সংঘবদ্ধভাবে শুল্ক ফাঁকির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউস রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। পরে আবার সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয় ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪২ শতাংশ।

একই সময়ে বন্দর দিয়ে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা এবং আমদানির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন কমেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বৈশ্বিক মন্দা অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব ঘাটতি নানান প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে সচেতন ব্যবসায়ী মহলে। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে কারসাজি, পণ্যের ভুল শ্রেণিবিন্যাস এবং মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি অসাধু চক্র অবৈধভাবে বিপুল অর্থের মালিক হচ্ছে। গত এক মাসে বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা প্রায় ১৫ কোটি টাকার পণ্য চালান আটক হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন রেকর্ড, বেকিং পাউডারের ঘোষণার আড়ালে কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আত্মসাৎ, ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ এবং কেমিক্যাল জোন থেকে পণ্য সরিয়ে নেয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

এ ঘটনায় শুল্ক ফাঁকি, পণ্য পাচার ও সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক চারটি মামলা করেছে। এসব মামলায় কাস্টমস কর্মকর্তা, বন্দর কর্মকর্তা, আনসার সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালকসহ মোট ৫৩ জনকে আসামি হয়েছে। কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিজিবির এক অভিযানে সরকারি নিলাম পণ্য কাস্টমসের নিজস্ব গোডাউন থেকে পাচারের সময় কাস্টমসের এক সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় এসব আসামিরা কেউ গ্রেফতার হয়নি।

সম্প্রতি কাস্টমসের একটি দাফতরিক চিঠিতে বন্দরের একটি ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের জন্য একই সময়ে দুই ধরনের ওজন দেখানোর তথ্য উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চালানটি আটক করে তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস।

সম্প্রতি যে সব সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম করে আমদানিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে এদের মধ্যে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হুদা ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স লিংক ইন্টারন্যাশনাল, করিম অ্যান্ড সন্স,এমি এন্টার প্রাইজ ও মেসার্স আলতাফ এন্ড সন্স এর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরো কয়েকজন সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বন্দরের শেডের ভেতরে পণ্য আত্মসাৎ বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটলে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা না নিলে একই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলে ব্যবসায়ীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং স্বচ্ছ বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, কাস্টমসের অভিযোগ পাওয়ার পর কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওজনযন্ত্রের তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ীমহল যেই হোক না কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. ফাইজুর রহমান বলেন, রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ওজনস্কেলে কারসাজি, মিথ্যা ঘোষণা কিংবা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া  হবে না। 

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

এক মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু, শেষ হলো একসঙ্গেই
কোরআনের আয়াত শুনিয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ করলো ইরান
ইরানের জন্য প্রস্তুত রাশিয়ার ২০টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান
অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকির অভিযোগ
সমৃদ্ধ পল্লীই গড়ে তুলবে উন্নত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
শাওন-মাহি-সোমাদের খুঁটির জোর কোথায়?
মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর
যুবলীগ নেতার মুক্তি দাবিতে থানা ঘেরাও, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
নিউইয়র্কে গোলাগুলি, ৪ শিশুসহ আহত অন্তত ৮
বেনাপোল কাস্টমসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি
বেড়াতে নিয়ে মামাতো বোনকে ধর্ষণ, ফুফাতো ভাই গ্রেফতার