Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২৮, ১২ মার্চ ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

পুলিশহত্যা মামলায় আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ

পুলিশহত্যা মামলায় আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলা করার আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করেননি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগটি শুনে ও পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

মামলার আবেদনকারী জালাল হোসেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার জাংগিরাই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এক পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় এসব ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে আদালত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বিবেচনায় মামলাটি গ্রহণ করেননি।

মামলার আবেদনে যাদের নাম উল্লেখ করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন— 

১. আসিফ মাহমুদ
২. আব্দুল কাদের
৩. আবু বাকের মজুমদার
৪. আব্দুল হান্নান মাসউদ
৫. আদনান আবির
৬. জামান মৃধা
৭. মোহাম্মদ সোহেল মিয়া
৮. রিফাত রশিদ
৯. হাসিব আল ইসলাম
১০. আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন
১১. লুৎফর রহমান
১২. আহনাফ সাঈদ খান
১৩. মোয়াজ্জেম হোসেন
১৪. ওয়াহিদুজ্জামান
১৫. তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা)
১৬. হামজা মাহবুব
১৭. রেজোয়ানা রিফাত
১৮. তরিকুল ইসলাম
১৯. নুসরাত তাবাসসুম
২০. রাফিয়া রেহনুমা হৃদি
২১. মুমতাহীনা মাহজাবিন মোহনা (বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল, ঢাবি)
২২. আনিকা তাহসিনা (রোকেয়া হল, ঢাবি)
২৩. উমামা ফাতেমা (সুফিয়া কামাল হল, ঢাবি)
২৪. তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী
২৫. নিশিতা জামান নিহা
২৬. মেহেদী হাসান (সোশিওলজি)
২৭. মো. আবু সাঈদ
২৮. সানজানা আফিফা আদিতি
২৯. তানজিনা তামিম হাফসা
৩০. আলিফ হোসাইন
৩১. কাউসার মিয়া
৩২. সাইফুল ইসলাম
৩৩. আরিফ সোহেল (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৪. আব্দুর রশিদ জিতু (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৫. স্বর্ণা রিয়া (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৬. রাসেল আহমেদ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৭. আসাদুল্লাহ আল গালিব (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৮. মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৯. গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)
৪০. নাজমুল হাসান (ঢাকা কলেজ)
৪১. শাহিনুর সুমী (ইডেন মহিলা কলেজ)
৪২. সিনথিয়া জাহিন আয়েশা (বদরুন্নেসা কলেজ)

এদিকে একই দিনে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঘিরে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে সরব দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ দুটি ভাগে বিভক্ত হতে যাচ্ছে—একটি ফ্যাসিবাদের পক্ষে, আরেকটি ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে। আমরা দেখতে চাই সংসদে যারা ফ্যাসিবাদের বিপক্ষের শক্তি বলে দাবি করেন, তারা যেন রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দেন এবং তার বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করেন।

এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন আসিফ মাহমুদ। সেখানে ইংরেজিতে মাত্র তিনটি শব্দ লেখেন— ‘Chuppu Must Go’। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এর আগে ৪ মার্চ আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সে সরকারে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে তিনজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। তাদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। প্রথমে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা এবং তার দায় ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তার টিআইএন ছিলো না বলেও উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নিয়েও এখনও আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে নিহতের সংখ্যা ৮৪৪ জন বলা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে এ সংখ্যা প্রায় ১৪০০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবার দেশ/এফও

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনির স্ত্রী বেঁচে আছেন: ইরানি গণমাধ্যম
অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার প্রস্তুতি
সংসদকে অপবিত্র করেছেন রাষ্ট্রপতি: জুলাই ঐক্য
নোয়াখালীতে স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে গণধর্ষণ
যশোরে আগুনে পুড়ে ১২ দোকান ছাই, ক্ষতি দেড় কোটি টাকা
ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেয়ার ভিডিও ভাইরাল
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির
নোয়াখালীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, লাশ ফেলে পালালেন স্বামী
নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থান হলে সালিশ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করবে না: এমপি ফখরুল ইসলাম
জামায়াত আমিরের নির্বাচনী ব্যয় প্রকাশ
বেনাপোল কাস্টম হাউসে ১৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি
ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
পুলিশহত্যা মামলায় আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ
মির্জা আব্বাসের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
বর-কনের বিয়েযাত্রা শেষ হলো মৃত্যুযাত্রায়