তারুণ্যের সমাবেশে তারেক রহমানের ঘোষণা
‘ডিসেম্বরেই নির্বাচন চাই, নয়তো তরুণদের গণআন্দোলন’
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন না হলে দেশজুড়ে নতুন প্রজন্মের গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’—এ শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, যারা সরকার পরিচালনা করবে, তাদের নির্ধারণ করবে জনগণ। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আর কোনো টালবাহানা চলবে না।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আবারও বলছি—ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। এর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের এখনই প্রস্তুতি নেয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনকে বিলম্বিত করার লক্ষ্যে ‘সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার’ অজুহাত তোলা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় উপেক্ষা করে যেভাবে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেয়া হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতারই প্রতিফলন।
ভোটাধিকার বঞ্চিত সাড়ে তিন কোটি তরুণ ভোটার
তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশকে নতুন করে সাড়ে তিন কোটি ভোটার যুক্ত হয়েছেন। অথচ তারা একবারও স্বাধীনভাবে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এটা জাতীয় দুর্ভাগ্য। নির্বাচন নিয়ে কোনও হেলাফেলা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা
সমাবেশে তরুণদের উদ্দেশে বিএনপির সম্ভাব্য কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে—
- কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ
- ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মাস কার্ড চালু
- ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ বাড়ানো
- গ্রামীণ হেলথকেয়ার, দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি ও তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার
- স্কুল-কলেজে প্রযুক্তি ও ক্রীড়া অন্তর্ভুক্তকরণ
- সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, ডেন্টাল হাইজিনিস্ট, টেকনিশিয়ান তৈরির কোর্স চালু
তিনি বলেন, আমরা এখনও সরকারে না থাকলেও, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে তরুণদের জন্য পরিকল্পনা করছি। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসব বাস্তবায়ন করবো।
বিএনপির হুঁশিয়ারি: নির্বাচন বিলম্ব মানেই ষড়যন্ত্র
সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের ভেতরে ও বাইরে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার ওয়াদা দিয়েছিলো দ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে। অথচ ১০ মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চাই, না হলে জনগণই ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।
তরুণদের সমুদ্রে নয়াপল্টন
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নয়াপল্টন আজ তরুণদের সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আপনার (তারেক রহমান) নেতৃত্বে বাংলাদেশের তরুণরা জেগে উঠেছে। তিনি দ্রুত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেন।

সংস্কারের নামে নির্বাচন পেছানো যাবে না
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিচার কিংবা সংস্কারের নামে নির্বাচন পেছানো যাবে না। বিএনপিই দেশে প্রথম সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন আর এ নিয়ে অজুহাত চলবে না।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট না হলে আজকের শাসকরা বিদেশে থাকতেন, আর আমাদের হতো জেল-ফাঁসি। সুতরাং বিচার তো আমাদেরই করতে হবে।
লুটপাটে আওয়ামী লীগ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকেও ছাড়িয়েছে
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, ৪ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ তৈরি করেছে। পদ্মা সেতু বানাতে যে অর্থ লাগে, তার চেয়েও বেশি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করেছে তারা।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমাদের যেসব ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সে আন্দোলনের সৈনিকদের দেশবিরোধী তকমা দেয়া হচ্ছে।
সমাবেশে অন্যদের বক্তব্য
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।
সবার দেশ/কেএম




























