শাহজাহান চৌধুরীর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত, সমালোচনার ঝড়
চট্টগ্রামে জামায়াতের নির্বাচনী ‘ব্লুপ্রিন্ট’ ফাঁস
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রকাশিত ভিডিও ক্লিপে তিনি প্রশাসনকে ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে’ নির্বাচনী মাঠ দখলের পরিকল্পনার কথা বলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বক্তব্যটি চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই মঞ্চে জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ঘোষণা দেন—
প্রশাসনের যারা আছে, তাদের অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে। আমাদের কথায় গ্রেফতার করবে, আমাদের কথায় মামলা দেবে। পুলিশ আপনার পিছনে পিছনে হাঁটবে, প্রটোকল দেবে।
তার এ বক্তব্য দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘নির্বাচনী নীলনকশা’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।
শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, প্রাইমারি ও হাইস্কুল–কলেজের সব শিক্ষককে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কথা বলতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি জানান, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা, প্রশাসন ও মাঠের কর্মীদের জামায়াতের নির্দেশনায় কাজ করতে হবে।
এসময় তিনি দাবি করেন, অতীতেও তিনি উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় বড় অঙ্কের সরকারি প্রকল্প ‘সুবিধাজনকভাবে’ বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন।
সমাবেশে তিনি বলেন,
টিএনও যে উন্নয়ন এনেছে তার হিসেব নমিনির (জামায়াত প্রার্থী) কাছ থেকে খুঁজে বের করতে হবে। লোহাগাড়ায় ১০০ কোটি, সাতকানিয়ায় ১০০ কোটি—সব জায়গায় সহযোগিতা করেছি।
জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী সময়ে প্রশাসনে জামায়াতধারীদের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠছে, এ ভিডিও সে আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনেকেই বলছেন, দলীয় দায়িত্বশীলদের সামনে এমন প্রকাশ্য ঘোষণা নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন—
এটাই কি তবে ব্লুপ্রিন্ট? শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে আগামী নির্বাচনের আসল চেহারাটা বেরিয়ে এসেছে। মনে হচ্ছে এটি আর ভোটের লড়াই নয়, বরং প্রশাসন ‘টেকওভার’ করার পরিকল্পনা।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—বাকি রাজনৈতিক দলগুলো কি তাহলে শুধুই ‘প্রটোকল ডিউটি’ দেখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে?
চট্টগ্রামের এ বক্তব্য এখন দেশব্যাপী নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সবার দেশ/কেএম




























