বিতর্কিত বক্তব্যে চাপে রয়েছে দলটি
শাহজাহান চৌধুরীকে জামায়াতের শোকজ
নির্বাচনে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে নেয়া সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। দলীয় ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জামায়াত।
বিতর্কিত বক্তব্য ও এর জেরে শোকজ
গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন—
নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়; যার যার এলাকায় প্রশাসনের যারা আছে, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে আনতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেফতার করবে, মামলা করবে।
এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এমনকি কূটনৈতিক মহলেও এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দেশ-বিদেশে জামায়াতের সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াতের নোটিশ: ‘দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন’
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) জামায়াত জানায়, সোমবারই শাহাজাহান চৌধুরীকে দলটির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়—
- তার বক্তব্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে স্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে
- এ বক্তব্য দলীয় নীতি, আদর্শ, গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী
- পূর্বেও তিনি একাধিকবার এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছিলো
- জামায়াত আমির নিজেও তাকে ডেকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তাতে তার আচরণে কোনও পরিবর্তন আসেনি
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়—তার বক্তব্য ইতোমধ্যেই সংগঠনের ভাবমর্যাদাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সাত দিনের আলটিমেটাম
কারণ দর্শানোর নোটিশে শাহজাহান চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে—
কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না?
তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে দল।
জামায়াতের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি
নির্বাচনকে ঘিরে এমন এক সময়ে এ বিতর্ক তৈরি হলো, যখন জামায়াত ভোটের মাঠে সংগঠন শক্তিশালী করতে চেষ্টা করছে। প্রার্থী হিসেবে দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন নেতার এমন বক্তব্য কেবল প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনার জন্মই দেয়নি, বরং দলের অভ্যন্তরেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এ ঘটনায় এখন শুধু শাহজাহান চৌধুরী নয়, জামায়াত নেতৃত্বও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে—বক্তব্যের দায় নিয়ে তারা কতটা কঠোর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সবার দেশ/কেএম




























