অসততার রাজনীতি করবো না
জনগণের কাছে নির্বাচনের খরচ চাইলেন তাসনিম জারা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের জন্য মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনের সম্ভাব্য খরচ মেটাতে তিনি সরাসরি সাধারণ জনগণের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান।
অসততার বৃত্ত ভাঙার অঙ্গীকার
ডা. তাসনিম জারা তার পোস্টে রাজনীতিতে বিদ্যমান অসততা ও মিথ্যার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন,
নির্বাচনি আইনে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা বা ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচের সীমা থাকলেও বাস্তবে অনেকে ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রায় সবার সংসদ যাত্রা শুরু হয় আইন ভাঙা ও মিথ্যা বলার মাধ্যমে; তিনি এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চান। জারা প্রতিজ্ঞা করেন যে, আইনে অনুমোদিত ব্যয়ের অতিরিক্ত একটি টাকাও তিনি খরচ করবেন না।
জনতহবিল ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
তাসনিম জারা জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা-৯ আসনে তিনি সর্বোচ্চ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। এ বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড়ে তিনি সাধারণ মানুষের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার মতে,
নির্বাচনের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করলে নির্বাচিত হওয়ার পর সে টাকা তুলতে জনপ্রতিনিধিরা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। এর ফলে রাজনীতি সাধারণ মানুষের হাত থেকে মুষ্টিমেয় সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায়।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি ফেসবুকে নিজের নতুন বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শেয়ার করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে:
- প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ এবং খরচের প্রতিটি হিসাব প্রমাণসহ জনগণের সামনে নিয়মিত প্রকাশ করবেন।
- কোনও প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ থাকবে।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান
ডা. তাসনিম জারা বলেন, অনেকে বলছেন অল্প বাজেটে নির্বাচন করা অসম্ভব, কিন্তু আমি মনে করি নতুন বাংলাদেশ গড়তে এর কোনও বিকল্প নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের ছোট ছোট অনুদানে যদি নির্বাচনের খরচ উঠে আসে, তবে সে জনপ্রতিনিধি কেবল জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ থাকবেন।
উল্লেখ্য, ডা. তাসনিম জারা একজন সুপরিচিত চিকিৎসক ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন। ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা) আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার এ ‘ক্লিন পলিটিক্স’ বা পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ডাক রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























