জামায়াতের জোটসঙ্গী হলো এলডিপি ও এনসিপি
নির্বাচনি সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে আরও দুটি দল। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি হলো কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং সদ্য গঠিত আলোচিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ১০ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ও নতুন শরিকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন একটি শক্তিশালী নির্বাচনি মোর্চা গঠিত হলো।
জোটের বর্তমান কাঠামো
আগে থেকেই এই জোটে আটটি রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল। দলগুলো হলো:
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
- খেলাফত মজলিস
- নেজামে ইসলাম পার্টি
- জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)
আজ এলডিপি ও এনসিপি যুক্ত হওয়ায় জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ালো ১০-এ।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা জানান, রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এলডিপির প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। অন্যদিকে এনসিপি নেতারা উল্লেখ করেন, নীতি ও আদর্শের মিল থাকায় তারা এ জোটে সামিল হয়েছেন।
এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংকট
উল্লেখ্য যে, জামায়াতের জোটে যাওয়ার এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির দুই শীর্ষ নারী নেত্রী তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীন ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনও এ জোটের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে সব সমালোচনা উপেক্ষা করেই এনসিপি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের জোটে যোগ দিলো।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ ১০ দলীয় জোট সম্মিলিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে নাকি আসন সমঝোতার ভিত্তিতে লড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























