সংস্কারের ঐকমত্যই বড় কারণ
জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে মুখ খুললেন আখতার হোসেন
নির্বাচনি রাজনীতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা বা জোট গঠন নিয়ে সৃষ্ট নানা আলোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক ও কৌশলগত মিল থাকায় তারা এ পথে হাঁটছেন।
সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব
আখতার হোসেন দাবি করেন, সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে অন্য অনেক রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের মতভিন্নতা রয়েছে। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিএনপির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দেয়া হয়েছে। কিন্তু এনসিপি, জামায়াত এবং আরও কিছু দল রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের মৌলিক বিষয়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবেই একমত হয়েছে। তার মতে, সংস্কারের এ অভিন্ন লক্ষ্যই দলগুলোকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
নির্বাচনি কৌশলে সংস্কারের গুরুত্ব
এনসিপির এ শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন যে, জোট গঠনের ক্ষেত্রে কেবল জয়-পরাজয় নয়, বরং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নকেই তারা বড় করে দেখছেন। আখতার হোসেন বলেন, দেশটাকে নতুন করে গড়া এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে স্থায়ীভাবে গণতান্ত্রিক রূপ দেয়ার জন্য যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা আমরা জামায়াতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। এ কমিটমেন্টকেই আমরা নির্বাচনি রাজনীতিতে জোট বা সমঝোতার সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করছি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য
উল্লেখ্য যে, এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে একটি অংশ যখন আপত্তি জানিয়ে পদত্যাগ ও স্মারকলিপি দিচ্ছে, তখন সদস্য সচিবের এ বক্তব্য দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকেই তুলে ধরলো। তিনি মনে করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নতুন একটি সংবিধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের লড়াইয়ে যারা একমত হবে, তাদের সঙ্গেই এনসিপি নির্বাচনি ময়দানে থাকবে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এ সময়ে এনসিপি ও জামায়াতের এ নয়া সমীকরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কোনও মেরুকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সবার দেশ/কেএম




























