Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪৩, ২৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০৯:৫১, ২৯ মার্চ ২০২৬

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর

রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন মইন উ আহমেদ!

বিদেশ যেতে রাজি হলে কারামুক্তি মিলবে- এমন শর্ত দেয়া হয়েছিলো খালেদা জিয়াকে। তিনি বলেছিলেন, দেশের মাটি ও মানুষ ছেড়ে বিদেশ যাবেন না। সরকারের শর্ত মানলে নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় বসবে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন- প্রস্তাবের সঙ্গেও আপস করেননি খালেদা জিয়া।

রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন মইন উ আহমেদ!
মইন উ আহমেদ, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ফাইল ছবি

২০০৭ সালের এক-এগারো-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জিজ্ঞাসাবাদে। পল্টন থানার একটি মামলায় রিমান্ডে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এ তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ পর্যায়ে মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবন-এ বসবাসের লক্ষ্য নিয়ে গোপনে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নানা বাধা ও পরিস্থিতির কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, মইন উ আহমেদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তাকে সেনাবাহিনী থেকে কার্যত সরিয়ে দেয়া হয়। ২০০৮ সালে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয় এবং পরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়।

এদিকে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারা অধিদফতরের দায়িত্বে থাকা মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি এক পর্যায়ে জানতে পারেন মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। বিষয়টি তিনি কারাবন্দি দুই শীর্ষ নেত্রী—খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা—কে অবহিত করেছিলেন।

প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়া নাকি বলেছিলেন, ‘দেশের জন্য ভালো হলে আপত্তি নেই, তবে তা হতে হবে নিয়ম মেনে।’ অন্যদিকে শেখ হাসিনা বিষয়টিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, এক-এগারো সরকারের কুশীলবদের অন্যতম ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করতে গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করলে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মাসুদ উদ্দিন। এতে অগাধ ক্ষমতাধরে পরিণত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই সময় ক্ষমতার ভাগাভাগিসহ নানা ইস্যুতে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর। যে কারণে ২০০৮ সালের ৮ জুন তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এরপর একই বছর ২ সেপ্টেম্বর তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে কার্যত সেনাবাহিনী থেকে তাকে বের করে দেন মইন উ আহমেদ। এ বিষয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গোয়েন্দা পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। কী কী বিষয় নিয়ে মইন উ আহমেদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়- এ বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একাধিক সূত্র বলেছে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের বছরখানেক পরই মইন উ আহমেদকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। এরপর ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছয় দিনের সফরে ভারতের নয়াদিল্লি যান তিনি। ওই সফরে সেনাপ্রধানের একমাত্র সফরসঙ্গী ছিলেন তৎকালীন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী। ওই সফরে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রটোকলও দেয়া হয়। সে সঙ্গে উপহার হিসেবে দেয়া হয় জার্মান হ্যানোভারিয়ান জাতের ছয়টি ঘোড়া। এতে মইন উ আহমেদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর আরও জোরালোভাবে প্রচারিত হয়। এ সফরে মইন উ আহমেদের সঙ্গে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী এবং দেশটির সেনাপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বৈঠক হয়। যেসব বৈঠকে বেশকিছু ইস্যুতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অনেক কিছুর গতিপথ নির্ধারণ হয় বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

জানা গেছে, মইন উ আহমেদ সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ দুই বছরেরও বেশি সময় দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এক-এগারো সরকারের শেষ বছরে এসে সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ জেনারেল ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বিপক্ষে ছিলেন। এমন একটা পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় সেনাবাহিনীর থাকা উচিত কিনা এ নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিলো সেনাবাহিনীতে। তখন সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ জেনারেল মইন উ আহমেদকে রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া দুই নেত্রীকে কারামুক্ত করার পক্ষে মত দেন। একটি প্রভাবশালী দেশের পক্ষ থেকেও বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য সেনাপ্রধানকে চাপ দিয়েছিলো।

সূত্র বলেছে, ওয়ান-ইলেভেন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে থামাতে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকেও আটক করেছিল। দুই ছেলেকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশ যেতে রাজি হলে কারামুক্তি মিলবে- এমন শর্তও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু খালেদা জিয়া এসব শর্ত মানেননি। তিনি তখন বলেছিলেন, দেশের মাটি ও মানুষ ছেড়ে বিদেশ যাবেন না। এমনকি সরকারের শর্ত মানলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় বসবে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন- এমন প্রস্তাবের সঙ্গেও আপস করেননি খালেদা জিয়া। তারেক রহমানকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে এ শর্তও মানেননি তিনি। এ ব্যাপারেও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

স্থল হামলা হলে ‘হাঙরের খাবার’ হবে মার্কিন সেনারা
উত্তরের ৮ জেলায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ
১৩৩ অধ্যাদেশে আজ রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে গণভোট হয়নি: নাহিদ ইসলাম
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
কেউ ফাঁসির মঞ্চ আবার কেউ গুম থেকে সংসদে, যা বিশ্বে বিরল: ডেপুটি স্পিকার
নির্বাচন ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে নেপথ্যের অজানা কাহিনী
‘নরকে স্বাগতম’—মার্কিন সেনা ঢুকলেই কফিনে ফেরার হুঁশিয়ারি ইরানের
অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ১০ কোটি, তবু স্পর্শ করলেন না!
ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি পেন্টাগনের
রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন মইন উ আহমেদ!
জনবল নিবে ডিপিডিসি, আবেদন যেভাবে
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখো মানুষ
যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইসরায়েল, গ্রেফতার ১২
বেরোবি ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ঢাবির ছাত্র আটক