ফিলিস্তিনিদের ন্যায্যতা কোথায়?
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ থামলেও গাজায় রক্তপাত অব্যাহত
ডজন খানেক দিনের ভয়াবহ সংঘাত শেষে অবশেষে থেমেছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ববাসী যখন খানিকটা স্বস্তি পাচ্ছে, তখনই নতুন করে সামনে এসেছে এক গভীর প্রশ্ন—ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন প্রতিহত করতে যে আন্তর্জাতিক শক্তি একসঙ্গে সক্রিয় হয়েছে, তারা কি পারছে না গাজার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে?
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয় তেহরান। উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি যুদ্ধাবস্থায় পৌঁছালে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক চেষ্টায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
কিন্তু গাজায় থামেনি রক্তপাত। নির্বিচারে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক মহল, জাতিসংঘ কিংবা মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ—সবই যেন অর্থহীন হয়ে পড়েছে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কাছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫৭ হাজার ফিলিস্তিনি। বেসরকারি বিভিন্ন সূত্র বলছে, এ সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো মানুষের খোঁজ নেই। চারপাশে শুধুই মৃত্যু, ধ্বংস আর কান্নার আর্তনাদ।
অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছেন, তিনি ‘অনেক যুদ্ধ থামিয়েছেন’, তাই নোবেল পুরস্কারের দাবিদার। তাহলে প্রশ্ন উঠছে—যদি সত্যিই শান্তি তার লক্ষ্য হয়, তবে কেন তিনি ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসন থামাতে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন না?
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বারবারই প্রমাণ করেছে—শক্তিশালী রাষ্ট্রের বেলায় ন্যায়বিচার সহজেই প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু দুর্বল, নিরস্ত্র জনগণের ভাগ্যে জোটে নিপীড়ন আর অবহেলা। ইরানের মতো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানো গেলেও, ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করতে বিশ্ব আজও ব্যর্থ।
ইতিহাসের পরিহাস, যে ভূখণ্ডে ৭৬ বছর আগে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল ইহুদিরা, সে জমিন দখল করে আজ তারা প্রতিষ্ঠা করেছে অবৈধ রাষ্ট্র—ইসরায়েল। আর সেই রাষ্ট্রই এখন বিশ্বের সবচেয়ে নির্মম আগ্রাসনের প্রতীক। যারা এক সময় নিপীড়নের শিকার ছিলো, তারাই এখন নিপীড়ক।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ থামা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কিন্তু গাজা আজও মৃত্যুপুরী। বিশ্ব বিবেকের সামনে প্রশ্ন রেখেই চলে যাচ্ছে একের পর এক শিশু, নারী, নিরস্ত্র মানুষ।
সময় এসেছে নির্লজ্জ নীরবতা ভাঙার। মানবতা কি কেবল শক্তিধরদের পক্ষে সংরক্ষিত থাকবে? নাকি অবশেষে কেউ গাজার শিশুর কান্না শুনবে, কেউ দাঁড়াবে সত্যের পক্ষে? বিশ্ব কী পারবে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে? সময়ই দেবে সেই উত্তর।
সবার দেশ/এফএস




























