Sobar Desh | সবার দেশ আবু ইউসুফ


প্রকাশিত: ০১:৩০, ৩০ জুন ২০২৫

এনবিআর আন্দোলন, সঙ্কটে ফেলতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

এনবিআর আন্দোলন, সঙ্কটে ফেলতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সঙ্কটে ফেলতে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের রাজস্ব আহরণের প্রধান প্রতিষ্ঠান—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের চক্র ও বিভিন্ন মাফিয়া গ্রুপের ইন্ধনে এনবিআরকে পুরোপুরি অচল করে দেয়ার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে।

সরকারের দেয়া তথ্য বলছে, এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে হাত দেয়ার পরপরই দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা নিজেদের ক্ষমতা, পদোন্নতি বাণিজ্য এবং অর্থ লুটপাটের পথ বন্ধ হয়ে যাবে বুঝতে পেরে আন্দোলনের নামে পুরো অর্থনীতি অচল করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে।

দুই দিন ধরে চলা শাটডাউন কর্মসূচির ফলে সারাদেশে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। বন্দর, কাস্টমস, কর অফিস, মূসক কার্যক্রম অচল। তৈরি পোশাক খাত থেকে শুরু করে শিল্প, কৃষি—সব খাতে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু তৈরি পোশাক খাতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সরাসরি এটাকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ধসে পড়বে।

সূত্র বলছে, গত এক যুগে এনবিআরের ভেতরে আওয়ামী বলয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটেছে। এদের ছত্রছায়ায় দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সংস্কার পরিকল্পনা এ সিন্ডিকেটের ভীত নড়িয়ে দিয়েছে। তাই তারা অর্থনীতিকে অচল করে জনগণকে বিপক্ষে উসকে দিতে মরিয়া।

সরকার ইতোমধ্যে এনবিআরের চাকরিকে ‘অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস’ ঘোষণা করেছে। আন্দোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি এসেছে। তবু আন্দোলনকারীরা শর্তহীনভাবে চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনবিআর বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে অনড়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এখন এনবিআর সংকট সমাধানে বৈঠক চলছে। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এনবিআরের ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, যারা আন্দোলনের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদন উল্লেখ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে জিম্মি করে একশ্রেণির সুবিধাভোগী চক্র ও রাজনৈতিক মাফিয়া দেশের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এ পরিস্থিতির অবসান না হলে দেশ এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্যোগের মুখে পড়বে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ
‘বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনে নজর রাখছে ভারত’
পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫
কাতার বিমানবন্দরে বিদেশিদের ভিড়, ছড়ালো দেশ ছাড়ার গুজব
আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম
কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
শিক্ষার্থীদের তালা ভেঙে অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করলো ছাত্রদল
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, নাগরিকদের ৫ নির্দেশনা ইরানের
চোখ বেঁধে জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করলা কেনো?: মেজর (অব.) আখতার
ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট
শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে উত্তাল সীতাকুণ্ড, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ
পুলিশকে পিটিয়ে জখম করলো আওয়ামী সন্ত্রাসীরা
মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ
জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, আটক ৩০