Sobar Desh | সবার দেশ বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৪৫, ২৫ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০১:৪৯, ২৫ আগস্ট ২০২৫

পাকিস্তানের দুঃখ একাত্তর! উত্তরণের পথ কি?

পাকিস্তানের দুঃখ একাত্তর! উত্তরণের পথ কি?
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ এর ৫ আগষ্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে ব্যস্ত পাকিস্তান। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করার চেষ্টা করছে তারা। অন্যদিকে, বাংলাদেশও বলছে—অতীত ভুলে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ জরুরি।

কিন্তু ১৯৭১ সালের গণহত্যার আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা, প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পাওনা পরিশোধ এবং আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নেয়ার মতো অমীমাংসিত তিনটি ইস্যুতে এখনও সমাধানের নিশ্চয়তা নেই।

তবু আশার আলো আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে পাকিস্তান বলছে—এ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আলোচনার পথ খোলা থাকবে। প্রশ্ন হলো—অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা সমস্যা এবার মীমাংসিত হবে কি না।

একাত্তরের দায় অস্বীকার নয়, সমাধান এখনও দূরে

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নয় মাসে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়, নির্যাতনের শিকার হন বহু সংখ্যক নারী। ১৯৭৪ সালে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে যুদ্ধবন্দিদের ফেরত পাঠানো হলেও গণহত্যার দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন থেকে যায়। অনেকে মনে করেন এখনও পাকিস্তান সে পথে হাঁটেনি।

২০০২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ঢাকা সফরে এসে সাধারণভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছে—গণহত্যার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে হবে।

এ প্রশ্নই ঘুরেফিরে এলো পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মুখোমুখি। রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত তৌহিদ হোসেন-ইসহাক দারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে একাত্তরের প্রসঙ্গে দার বলেন, 

১৯৭৪ সালে ইস্যুটি লিখিতভাবে সমাধান হয়েছে। এরপর জেনারেল মোশাররফও এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। পরিবারে একবার সমাধান হলে, সেটা হয়ে গেছে।

তবে ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট—এ মন্তব্যের সঙ্গে তারা একমত নয়। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, 

আমি একমত না। যদি একমত হতাম, তাহলে তো সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো। আমরা চাই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুক, মাফ চাক। আমরা চাই পাওনা পরিশোধ হোক এবং আটকে পড়া মানুষগুলোকে তারা ফিরিয়ে নিক।

নতুন কূটনৈতিক উষ্ণতা, কিন্তু শর্ত আছে

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় হয়ে ওঠে। নিউইয়র্ক ও মিসরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠক, চারবার তৌহিদ হোসেন-ইসহাক দারের অনানুষ্ঠানিক আলাপ এবং এপ্রিলে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সম্পর্কের বরফ গলছে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর স্থগিত হয়ে যায় মে মাসে, ভারতের পেহেলগ্রামে সন্ত্রাসী হামলার কারণে। সে সফরই অনুষ্ঠিত হলো ২৩-২৪ আগস্ট। এক যুগ পর ঢাকা সফররত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার টেবিলে উঠে এলো অমীমাংসিত তিন ইস্যু। পাশাপাশি রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার আভাসও মিললো।

বৈঠকে সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি সই হয়। আরও পাঁচটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়। তবে একাত্তরের দায় স্বীকারের প্রশ্নে কোনও অগ্রগতি নেই।

‘তিনবার না বলার কারণ কী?’—বিশেষজ্ঞের মত

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর মনে করেন, 

পাকিস্তানের দিক থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার বিকল্প নেই। ‘দুইবার তারা এ বিষয়ে বলেছে। তৃতীয়বার বলতে আপত্তি কী? কারণ এটা আমাদের আত্মার সঙ্গে জড়িত। লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। পাকিস্তানের মন খোলা হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ স্বাভাবিক। তবে তা যেন ভারসাম্যের মধ্যে থাকে। দুই দেশ একই অঞ্চলের। পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ আছে। সহযোগিতা বাড়ানোর দরকার আছে। পাকিস্তানের এ সফরে সে সুযোগ তৈরি করেছে। তবে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এগোতে হবে।

রাজনীতিতে পাকিস্তানের তৎপরতা

দুই দিনের সফরে ইসহাক দার কেবল সরকারি বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এ ছাড়া এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এ যোগাযোগের অর্থ কী? সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীরের মতে, তারা যেহেতু আসছে, যোগাযোগ করবে। এটা অস্বাভাবিক না। তবে আমাদের দেখতে হবে, যেন এটা দেশের জন্য উপকারী হয়।

সমাধানহীন অমীমাংসিত ইতিহাস

১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের দায়, পাওনা টাকা এবং আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে অর্ধশতকেও সমাধান আসেনি। এবারও নিশ্চিত কোনো প্রতিশ্রুতি মিলেনি। তবু আলোচনার দরজা খোলা থাকায় কূটনৈতিক মহলে নতুন সম্ভাবনার আভাস দেখা যাচ্ছে।

তবে মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—পাকিস্তান কি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইবে? সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পাওনা পরিশোধ করবে? নাকি ইতিহাসের দুঃখই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে থাকবে?

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন