ইতিহাস গড়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ
ঋতুপর্ণাদের সাফল্যের পর এবার ইতিহাস গড়ল সাগরিকার দল। চীনের কাছে লেবাননের বড় ব্যবধানের হার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দলের এশিয়ান কাপে জায়গা। সেরা তিন রানার্সআপের একটি হয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ফুটবলের এ মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
আজ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলে হেরেছে পিটার বাটলারের দল। প্রথমার্ধে তৃষ্ণা রানীর গোলে সমতায় ফিরলেও দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক পাঁচ গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মেয়েরা। জয় বা ড্র করলে গ্রুপসেরা হয়ে সরাসরি জায়গা পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হার তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। তবুও লেবাননের বড় হারের সুবাদে রানার্সআপ হয়েও ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
বাছাইপর্বে দুর্দান্ত শুরু করেছিল সাগরিকারা। লাওসকে ৩-১ গোলে হারানোর পর পূর্ব তিমুরকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে এগিয়ে যায় দলটি। তৃষ্ণা রানী সর্বোচ্চ চার গোল করে হয়েছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা স্কোরার, যার মধ্যে একটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে। সাগরিকা করেছেন তিন গোল।
আগামী বছর ১ থেকে ১৮ এপ্রিল থাইল্যান্ডে হবে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ। স্বাগতিক থাইল্যান্ডসহ মোট ১২টি দল অংশ নেবে। বাছাই থেকে জায়গা পাওয়া দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে উত্তর কোরিয়া, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে। এশিয়ান কাপে সেমিফাইনালে যাওয়া চার দলই পাবে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের টিকিট।
বাংলাদেশ নারী ফুটবলের জন্য এটি নতুন অধ্যায়। ১৯৮০ সালে প্রথম পুরুষদের জাতীয় দল এশিয়ান কাপে খেলে। এরপর ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল প্রথম এশিয়ান কাপে যায়, পরে ২০১৭ ও ২০১৯ আসরেও খেলে। গত জুলাইয়ে মিয়ানমারে প্রথমবার জাতীয় নারী দল মূল পর্বে ওঠে। এবার অনূর্ধ্ব-২০ দলও যোগ দিল সেই কাতারে।
২০২৪ সালের শুরু থেকে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাগরিকার দল টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এবার এশিয়ান কাপে জায়গা পেয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্নও উজ্জ্বল করেছে মেয়েরা।
সবার দেশ/এফও




























