কোরআন অবমাননার অভিযোগে হামলা
কুষ্টিয়ায় মাজারে ভাঙচুর-আগুন, কথিত ‘পীর’ নিহত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দরবারটির প্রধান কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (জাহাঙ্গীর) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’-এ এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা চালায়। তারা দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
হামলার সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামিমসহ কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং অন্যদের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শামিম দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্মের প্রচলিত বিধানবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদত অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানে অবস্থিত তার দরবারে যেতে বলতেন বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী রীতি না মেনে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেয়া এবং নানা অস্বাভাবিক আচারের প্রচলন ছিলো।
নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো বলে জানা গেছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশ দেখেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি পুরোনো। ওই ভিডিও দেখেই উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওতে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























