Sobar Desh | সবার দেশ পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৩৬, ৮ জুন ২০২৬

অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠনের

বন্দুকের মুখে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ

বন্দুকের মুখে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) বাংলাদেশি সন্দেহে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অমানবিক ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এপিডিআর দাবি করে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’ বা ‘থ্রি ডি’ নীতির কথা উল্লেখ করেছিলো। ক্ষমতায় আসার পর কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে আটককেন্দ্রে রাখার উদ্যোগ এবং সীমান্তে ‘পুশ ব্যাক’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

এপিডিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এসব মানুষের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় অনেকেই সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো পয়েন্টে আটকা পড়ে আছেন। ফলে তারা কার্যত দুই দেশের মাঝামাঝি এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব আটকে পড়া মানুষের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুরাও রয়েছে। তারা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এতে সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এপিডিআরের অভিযোগ, বিএসএফ এসব মানুষকে নো-ম্যানস ল্যান্ডে রেখে দায়িত্ব অস্বীকার করছে। বিএসএফের দাবি, তারা বাংলাদেশি হওয়ায় তাদের প্রতি ভারতের কোনও দায় নেই। অন্যদিকে বিজিবির বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশি পরিচয়ের কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে তাদেরও গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে আটকে পড়া মানুষগুলো কার্যত দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থানের মধ্যে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

এপিডিআর আরও দাবি করেছে, ভারতের তথাকথিত ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি দেশটির সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা সব মানুষকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং মানবিক সংকটের অবসান ঘটাতে হবে। তিনি ভারতের ‘পুশ ব্যাক’ নীতি বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।

একই সঙ্গে এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এপিডিআর। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তে আটকে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এপিডিআরের এ অভিযোগ নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মানবাধিকার ও অভিবাসন সংকটের বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএসএফ বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও; এসআই ক্লোজড
বন্দুকের মুখে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ
বিসিবি কি মন্ত্রী-এমপিদের সন্তানদের ক্লাবে পরিণত হচ্ছে?
গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা
দেশে লোডশেডিং নেই: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী
গুম-খুনের ‘সম্মতি উৎপাদনকারীদের’ বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা?— প্রশ্ন হাসনাতের
মধ্যরাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ঢাকা
ভোট ছাড়াই বিসিবি সভাপতি তামিম
রাজনীতিতে তরুণদের উত্থান: নেতৃত্বের বিকাশ, নাকি পেশিশক্তির বিস্তার?
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড
সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু আজ
খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ
বিএনপি একটি অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
৬ কোটি টাকার সেতু, ওঠানামায় ভরসা বাঁশের সাঁকো