ধর্ষণ ও শোষণের অভিযোগ
স্ত্রীকে ১২০ জনের কাছে ‘বিক্রি’ করে জেলে ঠাঁই স্বামীর
ইউরোপের দেশ সুইডেন-এ এক আলোচিত ঘটনায় ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা, একাধিক ধর্ষণ ও সহিংসতার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রসিকিউটর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ দাখিল করেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২০ জন পুরুষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিলো একটি পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি শোষণের ঘটনা, যেখানে ভুক্তভোগী নারীকে বছরের পর বছর নির্যাতনের মধ্যে রাখা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গত বছরের অক্টোবরে গ্রেফতার করা হয় এবং এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বহু বছর ধরে তিনি তার স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতে বাধ্য করতেন এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতেন। শুধু তাই নয়, তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিতেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেন এবং পুরো কার্যক্রম নিজেই তদারকি করতেন। আরও বেশি গ্রাহক পেতে স্ত্রীকে অনলাইনে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে শারীরিক সহিংসতা, হুমকি প্রদান এবং স্ত্রীর মাদকাসক্তির সুযোগ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি তাকে মাদক সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে।
প্রসিকিউটর এই ঘটনাকে ‘নির্মম শোষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে অন্তত আটটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























