ইসরায়েলের কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ
‘আপনি আর আসবেন না, আপনি এলেই তারা আমাকে ধর্ষণ করে’
ইসরায়েলের কুখ্যাত কারাগারে আটক এক ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দি পদ্ধতিগত নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী বেন মারমারেলি।
কানাডাভিত্তিক সাংবাদিক সামিরা মোহিয়েদ্দিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কারাগারে বন্দির ওপর এমন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে যে, আইনজীবীর সাক্ষাতের পরও নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।
মারমারেলি বলেন, বন্দি তার কাছে বলেছেন,
আপনি আর আসবেন না, আপনি এলেই তারা আমাকে ধর্ষণ করে।
তার কথায়, যৌন সহিংসতা এ নির্যাতনের একটি অংশ মাত্র। এ ছাড়া জুতার ছাপ, সারা গায়ে নীলচে দাগ, হাতকড়ার কাছে গভীর ক্ষতের চিহ্নসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নিপীড়নও লক্ষ্য করা গেছে।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিরা সাধারণত বছরের পর বছর কারাগারে কোনও সাক্ষাৎ পান না; আইনজীবীর সাক্ষাতই তাদের একমাত্র বাইরের যোগাযোগ। মারমারেলি বিশেষভাবে দক্ষিণ ইসরায়েলের সদে তেইমান সামরিক আটক কেন্দ্র উল্লেখ করেছেন, যেখানে বন্দিদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, সঙ্গে সঙ্গে নজরদারি ক্যামেরায় রেকর্ড করা হচ্ছে, অথচ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সৈন্যরা এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মাটিতে পড়ে টেনে নিয়ে মারধর করছে। ভিডিও প্রকাশের পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং কেন্দ্রের বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের তদন্ত দাবি করে। ভিডিও বিতর্ক তীব্র হলে ৩১ অক্টোবর ইসরায়েলি সামরিক প্রসিকিউটর ইফাত টোমার-ইয়েরুশালমি পদত্যাগ করেন। তিনি স্বীকার করেন, ভিডিও গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া রুখতে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিলো।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এসব অভিযোগ ইসরায়েলি আটক কেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আরও প্রমাণসাপেক্ষ করছে। বিশেষ করে গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্যাতন, নিখোঁজ হওয়া ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
সবার দেশ/কেএম




























