ঘুষের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ: চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে পুরো বিচারপ্রক্রিয়াই শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনও প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং স্বাভাবিকভাবেই বিচার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়।
তিনি বলেন, এতে ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—তার মেয়াদকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগও সহ্য করা হবে না।
আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের সব প্রসিকিউটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যারা কাজ করবেন তাদের অবশ্যই লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। যদি কেউ সে মানদণ্ড বজায় রাখতে না পারেন, তাহলে এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজ থেকেই সরে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে এসেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের অভিযোগ কোনও প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠার কথা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অভিযোগটি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিলো। কেনো তা দ্রুত করা হয়নি, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কাছে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানান তিনি। যদি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। অভিযোগ উঠেছে, তাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক এসব রেকর্ডিং সংগ্রহ করে এ বিষয়ে যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সবার দেশ/কেএম




























