অধ্যাদেশ ইস্যুতে বিরোধীদল ‘রাজনীতি’ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করে জারি করা কয়েকটি অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল অযথা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি জানান, গুম, মানবাধিকার এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও পরিমার্জিত আইন প্রণয়ন করা হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অধ্যাদেশে যা ছিলো, তার সবই যে নিখুঁত ছিলো—তা নয়। আমি নিজেই গুমের শিকার। গুম নিয়ে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইন হবে।
তিনি বিরোধী দলের সাম্প্রতিক সংসদ ওয়াকআউটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংসদের বিধি অনুযায়ী ওয়াকআউট তাদের অধিকার হলেও যেসব ইস্যুতে তারা প্রতিবাদ করেছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তার অভিযোগ, সংসদের বাইরে বিরোধী দল ভুল তথ্য উপস্থাপন করছে।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নিয়োগসংক্রান্ত বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের খসড়ায় কিউরেটর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে অনির্দিষ্টকাল দায়িত্বে থাকার সুযোগ ছিলো, যা সরকার সংশোধন করেছে। ভবিষ্যতে এ নিয়ে আলোচনা করে নতুন বিল আনা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধীদল যেসব অধ্যাদেশে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলো, সেগুলো প্রায় হুবহু আকারেই সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু তারা তা না বুঝেই বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন তুলছে।
গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে বর্তমান গণভোট প্রক্রিয়ার অসামঞ্জস্য রয়েছে। তার ভাষায়, আমি নিজেই গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। পরে গণভোট অধ্যাদেশ হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যে আদেশ জারি করেছেন, সে ক্ষমতা তার সাংবিধানিকভাবে নেই। এ বিষয়ে আদালতে রিটও হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার আইনি বৈধতা রয়েছে। নির্বাচন শেষ হয়েছে, এখন নতুন আইন প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে আবার গণভোটের প্রশ্ন এলে তখন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সবার দেশ/কেএম




























