রাষ্ট্রপতির ভাষণ বাদ দিয়ে বিল পাসে জোর—সংসদে নাহিদের প্রস্তাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন পাসের গতি বাড়াতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা বাদ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ১১তম দিনের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, সংসদের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা রয়েছে। আগামী ৯ বা ১২ এপ্রিলের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে অধিবেশন দীর্ঘ সময় ধরে চালানো হচ্ছে, এমনকি শুক্রবারও অধিবেশন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের অভ্যন্তরে আগে থেকেই একটি সমঝোতা ছিলো—রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা সংক্ষিপ্ত বা বাদ দিয়ে দ্রুত অধ্যাদেশগুলো পাসে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে বিল উত্থাপনে কারিগরি বা মুদ্রণজনিত বিলম্বের কারণে বর্তমানে সে আলোচনা চলমান রয়েছে।
বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনও বিতর্ক না ওঠে—বিশেষ করে যেসব বিলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা বিরোধী মতামত রয়েছে, সেগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি—সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাই ঐকমত্য থাকা বিলগুলো আগে পাস করার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ নেতার অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদ নেতা উপস্থিত থাকলে আলোচনাটি আরও ফলপ্রসূ হতো। তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান।
নাহিদ ইসলামের প্রস্তাবের জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, সংসদকে কার্যকর রাখতে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করছে এবং সব প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে।
এ সময় সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বিরোধী দলের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি জানান, সংসদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দ্রুত বিল পাস করা, এজন্য প্রতিদিন দুই বেলা অধিবেশন চলছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সংসদের সামনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ রয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইন হিসেবে পাস করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের আনুষ্ঠানিক আলোচনা বাদ দিয়ে কার্যকর আইন প্রণয়নে মনোযোগ দেয়ার এ প্রস্তাব সংসদের কাজের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























