জিতলেন ১ কোটি রুপি
বিতর্ককে পেছনে ফেলে ‘লক আপ ২’-এর চ্যাম্পিয়ন শ্রেয়া কালরা
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ থেকে রিয়েলিটি শোর বিজয়ী—এ দীর্ঘ পথচলার আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী শ্রেয়া কালরা। নেটফ্লিক্সের বহুল আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’-এর দ্বিতীয় আসরে সেরার মুকুট জিতে নিয়েছেন তিনি। ট্রফির পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ১ কোটি রুপি, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এ সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। গোটা মৌসুমজুড়ে নানা বিতর্ক, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, তীব্র সমালোচনা এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্য দিয়েই ফাইনালে পৌঁছেছেন শ্রেয়া। শেষ পর্যন্ত দর্শকদের সমর্থন ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে এনে দিয়েছে বিজয়ের হাসি।
টিকটক থেকেই শুরু পরিচিতি
১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেন শ্রেয়া কালরা। এমবিএ ডিগ্রিধারী এ তরুণী প্রথম আলোচনায় আসেন টিকটকে নাচ, লিপসিংক এবং বিনোদনধর্মী ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে। অল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক অনুসারী তৈরি করেন তিনি।
ভারতে টিকটক নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেকের মতো হারিয়ে না গিয়ে বরং নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন শ্রেয়া। ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ফ্যাশন, লাইফস্টাইল, ট্রাভেল, নাচ ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরি করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারে পরিণত হন।
রিয়েলিটি শো থেকে অভিনয়ের জগতে
ডিজিটাল দুনিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ২০২০ সালে ‘এমটিভি রোডিজ রেভোল্যুশন’-এ ওয়াইল্ডকার্ড প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন শ্রেয়া। যদিও সে প্রতিযোগিতায় খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি, তবে দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন।

পরবর্তী সময়ে একাধিক মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেন তিনি। জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী ও রিয়েলিটি শো বিজয়ী মুনাওয়ার ফারুকির সঙ্গে ‘দ্য সোসাইটি’-এর দ্বিতীয় মৌসুম সঞ্চালনা করেন। পাশাপাশি ‘ডোন্ট স্পিল টু মাচ’ নামে একটি পডকাস্টও শুরু করেন। কয়েকটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মিনিসিরিজেও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দেন।
‘লক আপ ২’-এ কৌশলী ও আত্মবিশ্বাসী প্রতিযোগী
‘লক আপ ২’-এর শুরু থেকেই শ্রেয়া ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নিজের কৌশলী খেলা, স্পষ্ট বক্তব্য এবং মানসিক দৃঢ়তার কারণে তিনি অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেন।
বিভিন্ন টাস্কে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস হারাননি তিনি। প্রতিপক্ষের সমালোচনা কিংবা চাপ—কোনোটিকেই নিজের খেলায় প্রভাব ফেলতে দেননি। এ দৃঢ় মনোভাবের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।
বিতর্ক ছিলো পুরো যাত্রার সঙ্গী
তবে শুধুই ভালো পারফরম্যান্স নয়, একের পর এক বিতর্কও শ্রেয়াকে আলোচনায় রেখেছে। প্রতিযোগী শিবাঙ্গী জোশী, আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী, যোগেশ রাওয়াত ও হর্ষদ চোপড়ার সঙ্গে তার একাধিকবার তীব্র বাক্বিতণ্ডা হয়।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যখন তিনি এক প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। এরপর বাড়ির অধিকাংশ সদস্য তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরে অভিনেত্রী শিলপা শিন্দের সঙ্গেও তার সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শিলপার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, শিলপা নিজের প্রকৃত মতামত প্রকাশ করছেন না। এসব ঘটনা শোয়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।
বিতর্ককে শক্তিতে পরিণত করলেন
বিতর্কে জড়ালেও প্রতিবারই পরিস্থিতি সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শ্রেয়া। বরং প্রতিটি সংকটকে নিজের পক্ষে কাজে লাগিয়ে আরও শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দর্শকদের একাংশের মতে, চাপের মুখে তার ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
‘দ্য শ্রেয়া কালরা শো’
পুরো মৌসুমে তাঁর প্রভাবশালী উপস্থিতি, সাহসী মনোভাব এবং প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কেন্দ্রে থাকার কারণে অনেক দর্শক মজা করে ‘লক আপ ২’-কে ‘দ্য শ্রেয়া কালরা শো’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
ফাইনালেও সে জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা যায়। দর্শকদের ভোট এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত ট্রফি নিজের করে নেন শ্রেয়া কালরা। ১ কোটি রুপির পুরস্কারের পাশাপাশি এইজয় তার ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিনোদন বিশ্লেষকরা।
রিয়েলিটি শো থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—সব জায়গাতেই নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া শ্রেয়া কালরার এ জয় প্রমাণ করল, বিতর্কের ঝড় সামলেও আত্মবিশ্বাস, কৌশল এবং দর্শকদের সমর্থন থাকলে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব।
সবার দেশ/এমকেজে




























