ভারতের ওপর শুল্ক: বাংলাদেশের রফতানিতে সম্ভাবনার নতুন জানালা
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই উজ্জ্বল। পাশাপাশি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে।
পোশাক রফতানিতে বাড়তি সুবিধা
বাংলাদেশের রফতানি আয়ের বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যার সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি বেড়েছে ২১ শতাংশের বেশি। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকে শুল্কহার কম হওয়ায় মার্কিন ক্রেতাদের জন্য এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বাংলাদেশ থেকে আমদানির দিকে ঝুঁকতে পারেন।
চামড়াজাত পণ্যে নতুন বাজার দখলের সুযোগ
বাংলাদেশের তৈরি চামড়াজাত পণ্য, বিশেষ করে জুতা ও ব্যাগ, আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভারতের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা পূরণে বাংলাদেশ প্রস্তুত থাকলে বড় সাফল্য আসতে পারে। জার্মানি, জাপান ও কোরিয়ার মতো বাজারে এ খাতের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
কৃষিপণ্যে প্রতিযোগিতামূলক রফতানির সুযোগ
ভারতীয় কৃষিপণ্যের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে হিমায়িত মাছ, চিংড়ি, শাকসবজি ও ফলমূল রফতানির সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এ খাতে সফল হতে হলে আন্তর্জাতিক মানের মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদপত্র নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রফতানির অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগবে।
আইটি খাতে বিকল্প গন্তব্য হতে পারে বাংলাদেশ
ভারতের আইটি খাতে মার্কিন শুল্ক বাড়লে বাংলাদেশ সেখানে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে। দেশের তরুণ ও দক্ষ মানবসম্পদ, তুলনামূলক কম খরচ এবং ইংরেজি ভাষাজ্ঞান–সব মিলিয়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কাছে কার্যকর বিকল্প হতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং ও সফটওয়্যার রপ্তানি গত কয়েক বছরেই অনেক গতি পেয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ টানার সম্ভাবনা
যেসব আন্তর্জাতিক কোম্পানি ভারতের পরিবর্তে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে, তারা বাংলাদেশকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। একইসঙ্গে চীন থেকেও উৎপাদন স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় উৎপাদনের জন্য একটি নতুন হাব হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
সুযোগ যেমন বড়, তেমনি প্রতিযোগিতাও কঠিন। ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া—সবাই একই বাজার লক্ষ্য করছে। তাই বাংলাদেশকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। উৎপাদন দক্ষতা, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে নিরবচ্ছিন্নতা, ব্যবসাবান্ধব নীতি ও এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখনই সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ না নিলে সম্ভাবনাগুলো প্রতিযোগীদের দখলে চলে যেতে পারে। তাই এ অবস্থাকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে নিয়ে পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ জোরদার করতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























