Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:৫৫, ২৯ মে ২০২৫

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৫

তরুণ প্রজন্ম সুরক্ষায় শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ জরুরি

তরুণ প্রজন্ম সুরক্ষায় শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’। দিবসটি সামনে রেখে ২৮ মে ‘প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)’ এবং ‘এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স–আত্মা’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা তরুণদের রক্ষায় শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভায় বলা হয়, বাংলাদেশে তামাক কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য তরুণ প্রজন্ম। কারণ, এক প্রজন্মের তামাকসেবীরা যখন ত্যাগ করতে বাধ্য হয় বা মারা যায়, তখন কোম্পানিগুলোর ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মের তামাকসেবী তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়ে। শিশু-কিশোরদের মোহনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকৃষ্ট করে কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতের ক্রেতা তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় ৫০৭টি স্কুলের পাশে থাকা মুদি দোকানের ৪৮৭টিতেই চকলেট, ক্যান্ডি, কোমল পানীয়র পাশে তামাকপণ্য রাখা হয়—যা শিশুদের সহজেই আকৃষ্ট করে। এছাড়া ই-সিগারেট ও ভ্যাপ পণ্যে বাবলগাম, চকলেট, চেরি ইত্যাদি সুগন্ধি ব্যবহার করে শিশুদের লক্ষ্য করা হয়। এসব পণ্য ইউএসবি স্টিক, কলম, ক্যান্ডির ডিজাইনে তৈরি হয়।

বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে মারা যান প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। অথচ কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আইন, কর ও নিয়ন্ত্রণ নীতির ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সমাজে তামাকের উপস্থিতি বজায় রাখছে। সরকার এখনও একাধিক তামাক কোম্পানিতে শেয়ার ধরে রেখেছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগে এক ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান তৈরি করছে।

সভায় বিশেষজ্ঞরা তামাক নিয়ন্ত্রণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন। এর মধ্যে রয়েছে—তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধন ও কার্যকর করা, তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহার, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে মূল্যস্তর তিনটিতে নামিয়ে আনা, সিগারেটকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তামাকজাত পণ্যের প্রচার বন্ধ করা।

সভায় অংশ নেন প্রজ্ঞা’র হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অনুপম হোসেন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, আত্মা’র আহ্বায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন, সহ-আহ্বায়ক মিজান চৌধুরী ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানির প্রভাব ও কৌশল রুখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন এবং জনসচেতনতার সমন্বয় প্রয়োজন। তাহলেই তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন