২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে চলে গেলেন শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী
রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যে শিক্ষিকা ২০ শিক্ষার্থীকে প্রাণে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই দগ্ধ হয়েছিলেন, সে মেহেরীন চৌধুরী আর বেঁচে ফিরলেন না (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার রাতে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
৪৬ বছর বয়সী মেহেরীন ছিলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা। দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ক্লাসরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত বাইরে বের করে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরীন চৌধুরী প্রথমেই শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেন। এরপর নিজের বের হওয়ার সময়ই আগুনে দগ্ধ হন তিনি।
পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি।
উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ম্যাডাম বাচ্চাদের বের না করলে আরও ২০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত ছিলো। তিনি নিজে শেষ অবধি বের হতে পারেননি, কিন্তু শিক্ষার্থীরা বেঁচে গেছে তার জন্য।
উদ্ধার হওয়া এক ছাত্রীর বাবা সুমন বলেন, ম্যাডাম অনেক ভালো ছিলেন। সেনাবাহিনী নিজেরাই বলেছে, তিনি না থাকলে অন্তত ২০ জন বাঁচতো না।
মেহেরীনের আত্মত্যাগের এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে শিক্ষাঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই তাকে ‘আসল নায়িকা’, ‘নীরব শহীদ’ এবং ‘মা–সম শিক্ষিকা’ হিসেবে স্মরণ করছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
সবার দেশ/কেএম




























