তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা
‘স্বেচ্ছা রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগের মূল্যায়ন করা যায় না’—এমন বক্তব্য দিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন,
আপনার রক্ত আমার জীবন’, এটি রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে এক মায়ার বন্ধন। রক্তের আসল গুরুত্ব একজন রক্তগ্রহীতা মাত্রই বুঝতে পারেন। তাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষসহ সর্বত্র স্বেচ্ছা রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।
স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের শ্রেষ্ঠত্ব
অনুষ্ঠানে কমপক্ষে তিন বার রক্তদানকারীকে ‘লাইফ লং’, দশ বারের দানে ‘সিলভার’, পঁচিশ বারের দানে ‘গোল্ডেন’ এবং পঞ্চাশ বারের দানে ‘প্লাটিনাম ক্লাব’ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি তাদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেন।
স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষে রুবাইয়াত হাসান সিরাজ (ও’ পজেটিভ গ্রুপ, ৫১ বার রক্তদান) এবং নিয়মিত রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ফারহান তানভীর রক্তদানের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক নাহার আল বোখারীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোটিভেশন এম রেজাউল হাসান। তিনি জানান, দুই যুগে প্রায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার ইউনিট রক্ত দিয়ে সেবা দিয়েছে কোয়ান্টাম। দেশে রক্তের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে তরুণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মানবিক এই সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
রক্তদানের গুরুত্ব
প্রসঙ্গত, কৃত্রিমভাবে রক্ত তৈরি করা যায় না এবং অন্য প্রাণীর রক্ত মানবদেহে সঞ্চালন করা সম্ভব নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ নিয়মিত চার মাস অন্তর স্বাচ্ছন্দ্যে রক্ত দিতে পারেন। এতে রক্তদাতার শারীরিক ক্ষতি হয় না, বরং শারীরিক সুস্থতাও বাড়ে।
স্বেচ্ছা রক্তদান এক মানবিক দায়িত্ব এবং সমাজের প্রতি অসীম দানের এক চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























