Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৪, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১৯:০৭, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

দুর্নীতি দমনে নাগরিক সমাজের কঠোর সংস্কারের দাবি সংবাদ সম্মেলনে

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত
ছবি: সবার দেশ

দেশের বাণিজ্য প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক, গতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে বন্দর ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার ও দুর্নীতি দমনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও ছাত্র জনতা। সম্মেলন থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমন শুধু বন্দর নয়, দেশের অর্থনীতি, রফতানি প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন শুধু অর্থনীতি নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত। তাই দেরি নয়, এখনই সাহসী ও কাঠামোগত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ধীরগতির বন্দরের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৪ সালে বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অথচ এ বিশাল সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু ব্যয়, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে আজ বিপর্যস্ত।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষণ—টিআইবি’র তথ্য অনুযায়ী বন্দরে ‘স্পিড মানি’ ছাড়া কাজ এগোনো প্রায় অসম্ভব, যা বছরে জাতীয় অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ব্যয় যোগ করছে ১.১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। এ বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত বাজারদর বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উন্নয়নের জন্য ছয়টি মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে বন্দরজুড়ে দুর্নীতির রুট কেটে ফেলা

বক্তাদের দাবি, বন্দর প্রশাসন ও কাস্টমস ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমবে, পণ্যমূল্যও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বন্দর যেখানে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের মাধ্যমে উচ্চ দক্ষতায় চলছে, সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরে পিছিয়ে থাকার মূল কারণ অপারেশনাল অদক্ষতা।

আধুনিক অপারেশন সিস্টেম চালু করে জাহাজ জট কমানো

বর্তমানে একটি জাহাজ খালাসে সময় লাগে ৭ থেকে ১২ দিন। বক্তারা বলেন, অটোমেশন ও ডিজিটাল বার্থিং সিস্টেম চালু করা হলে এ সময় কমে ৪৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তারা তানজানিয়ার ডিপি ওয়ার্ল্ডে আধুনিকায়নের পর জাহাজের অপেক্ষার সময় ৫ দিন থেকে ২ দিনে কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৭ সালের সংস্কারে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস সময় ১১ দিন থেকে কমে ৪ দিনে নামানো সম্ভব হয়েছিল—এটাই পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রমাণ।

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ না বাড়িয়ে BOT মডেলে উন্নয়ন

বক্তারা জানান, আন্তর্জাতিক অপারেটররা BOT মডেলে বিনিয়োগে আগ্রহী, যেখানে সরকারি খাতকে বড় অর্থ ব্যয় করতে হবে না। উদাহরণ হিসেবে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসের ৩০ বছরের জন্য ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ মডেল বাস্তবায়িত হলে গ্যান্ট্রি ক্রেন, গভীরতা বৃদ্ধি ও ট্র্যাকিং সিস্টেমসহ পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন সম্ভব।

সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছ বন্দর গড়ে তোলা

বক্তারা বলেন, কাস্টমস ও খালাস জটকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী দুর্নীতিচক্র গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত হলে অটোমেশন ও অডিট ট্রেইলের কারণে ভেঙে পড়বে। মানুষের মনোপলি কমলে অবৈধ আয় বন্ধ হবে, বাড়বে স্বচ্ছতা।

সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ

বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, বিদেশি অপারেটর মানে বন্দর বিক্রি নয়—এটি ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’। সরকার ভূমির মালিক ও নিয়ন্ত্রকই থাকবে। কাস্টমস, নৌ–নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণও থাকবে রাষ্ট্রের হাতে। অপারেটর হবে কেবল প্রযুক্তিগত সেবা প্রদানকারী, তাই ‘বন্দর বিক্রি’–সংক্রান্ত গুজবকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।

শ্রমিকের চাকরি নয়, বরং কর্মসংস্থান বাড়বে

বক্তারা বলেন, অপারেশন আধুনিক হলে কর্মসংস্থান আরও বিস্তৃত হবে। উন্নত প্রশিক্ষণ পাবেন শ্রমিকরা, বেতন–ভাতা হবে আন্তর্জাতিক মানসম্মত। ফলে রফতানি খরচ কমে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে।

সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। আবেগ নয়—অর্থনীতি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বাস্তবতা বিবেচনায় বন্দর সংস্কার অপরিহার্য। তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে অপপ্রচার ও সিন্ডিকেটের চাপে নতি স্বীকার না করে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তাদের ভাষায়—‘এটি বন্দরকে বাঁচানোর লড়াই, জাতীয় সম্পদ রক্ষার লড়াই।’

‘সচেতন নাগরিক সমাজ ও ছাত্র জনতা’র ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাকিরা বিনতে আলম, তৌফিক শাহরিয়ার (আয়োজক), আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি, সায়েম চৌধুরি, নাহিদ হাসান, হাসানুর রহমান জিহাদ ও সাব্বির হোসেন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন