ঈদযাত্রায় নাকাল মানুষ, চন্দ্রায় ১২ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে গাজীপুরের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। এতে বাড়ি ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছে চরম ভোগান্তির।
সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা টার্মিনাল এলাকায় উপচে পড়া যাত্রীভিড়। সফিপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং কবিরপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আরও ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। যানবাহন থেমে থেমে চলায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
যাত্রীরা জানান, শুধু চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছাতেই এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। টার্মিনালে পৌঁছানোর পরও বাস ছাড়তে দেরি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
জানা গেছে, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের শত শত পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এতে হঠাৎ করেই সড়কে চাপ বেড়ে গিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
ঢাকা থেকে বগুড়াগামী এক যাত্রী জানান, চন্দ্রা পর্যন্ত আসতেই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে, এরপরও বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আরেক পোশাককর্মী বলেন, সারাদিন কাজ শেষে এসে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে বাস পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করলেও সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চন্দ্রা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়ায় ঈদের সময় এখানে চাপ বাড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত যানজট অব্যাহত থাকায় অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পরও গন্তব্যে রওনা হতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন।
সবার দেশ/কেএম




























