কুমিল্লায় ট্রেন-বাস মর্মান্তিক সংঘর্ষ, নিহত ১২
ঈদের রাতে কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
শনিবার রাত ৩টার কিছু আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেনটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, ফলে বাসটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ। উদ্ধারকারীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ও নিহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগেই পুলিশ ও স্থানীয়রা আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা অজয় ভৌমিক জানান, হাসপাতালে আনার পর ১২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে একটি শিশু এবং দুই থেকে তিনজন নারী রয়েছেন। বাকিরা পুরুষ।

আহতদের মধ্যে অনেকেই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি অসাবধানতাবশত রেললাইনে উঠে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান দায়িত্ব পালন করছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যাত্রী ওমর ফারুক জানান, তিনি বাসে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ধাক্কায় ঘুম ভেঙে যায়। এরপর কী হয়েছে তিনি মনে করতে পারেন না। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পান।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সবার দেশ/কেএম




























