মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে প্রতারণা: ১০১ রিক্রুটিং এজেন্সি দুদকের জালে
বিদেশে রোজগারের স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সরকারি নির্ধারিত খরচ ৭৯ হাজার টাকা হলেও দালালচক্র ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো তাদের কাছ থেকে আদায় করছে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। দীর্ঘদিনের এ একচেটিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এবার নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এর মধ্যে ২৫টির বিরুদ্ধে ২ হাজার ২০০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রভাবশালী কয়েকজন সাবেক সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। এদের মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক এমপি নিজাম হাজারী এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন এজেন্সির নামও রয়েছে অভিযোগের তালিকায়।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা ভিসা প্রসেসিংয়ের অজুহাতে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এ কারণে ৬৪ জন আসামির বিরুদ্ধে মোট ২ হাজার ২২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করা হয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শাহজাহান সাজু বলেন, বিদেশগামী শ্রমিকরা এ প্রতারণার কারণে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। পরিবারগুলো সর্বস্ব বিক্রি করে কর্মী পাঠাচ্ছে, কিন্তু তারা দেশে ফেরে ধ্বংস হয়ে গিয়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মনিটরিং ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ালে এ ধরনের প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আল আমিন নয়ন সতর্ক করেছেন, এ ধরনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে না আনলে দেশের শ্রমবাজার ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তার মতে, সৌদি আরবে বৈধ খরচ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হলেও বাস্তবে খরচ হয় ৬-৭ লাখ টাকা। সবাই জানে, কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনলে প্রতারণার এই প্রবণতা বন্ধ হবে না।
দুদক জানিয়েছে, প্রয়োজনে অভিযুক্ত এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























