Sobar Desh | সবার দেশ রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:২৯, ২৬ মার্চ ২০২৬

পরিচয় মিলেছে ১০ জনের

পদ্মায় বাসডুবি: ১৯ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ বহু

পদ্মায় বাসডুবি: ১৯ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ বহু
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ এক নৌ-দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে গিয়ে অন্তত ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী। উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বুধবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে থাকা বাসটি উদ্ধার করা হলে একে একে ভেতর থেকে লাশ বের করতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে। এ সময় ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজন হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যরা।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, উদ্ধার হওয়া লাশগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।

উদ্ধারকারীরা জানান, বাসটির দরজা ভেঙে গেছে এবং ভেতর থেকে স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভেসে উঠতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিচয় পাওয়া যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ওঠা গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের দুই সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। গিয়াস উদ্দিন খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের ছুটি শেষে তারা ঢাকার নিজ কর্মস্থল তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টে ফিরছিলেন।

এছাড়া খোকসা থেকে ওঠা দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী ছেলে ইসরাফিলও বাসে ছিলেন। তাদের শিশুপুত্র এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং তাদের দুই সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও সাত মাস বয়সী আরশানও ওই বাসে ছিলেন। তাদের মধ্যে স্ত্রী আয়েশা ও শিশু আরশান এখনও নিখোঁজ।

ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো এবং দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলো। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি পন্টুনে জোরে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়।

ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতায় নামে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও চলছে জোরালো উদ্ধার অভিযান।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

সামিটে ভিড়েছে এলএনজি জাহাজ, গ্যাস সংকটে স্বস্তি
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি, প্রধানমন্ত্রীর শোক
জোট ছাড়ার প্রশ্নে এনসিপিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
সংসদ অভিমুখে ১১ দলের পদযাত্রা রোববার
দুমকীতে যুবদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, ঝাড়ু মিছিল
‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ যোগদানের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায়: শামা ওবায়েদ
চল্লিশের পরও তারুণ্য ধরে রাখার সহজ ৮ উপায়
ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপাল, নিহত দেড় শতাধিক
রংপুরে ৪ খুন: জমি সংক্রান্ত বিরোধও আসছে সামনে
পাঁচ ঘণ্টাতেই পাঁচ সিনেমাকে পেছনে ফেললো ‘টক্সিক’
নেপালে আকস্মিক বন্যা, ৫৫ জনের মৃত্যু
ভুটানের রাজাকে স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি
পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
বৃটেনে কারাদণ্ড প্রাপ্ত রেজাউল বহাল তবিয়তে বাংলাদেশে
বৃটেনে প্রতারণার দায়ে বাংলাদেশিসহ ৫ জনের জেল
ভুল তথ্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ সিপিডির