এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও রয়ে গেছে আতঙ্ক
মেঘনায় আওয়ামী সন্ত্রাসী তাজুল ইসলাম তাজ গ্রেফতার
কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মেঘনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল বাতেন খন্দকার জানান, রাতে ডিবির একটি দল এসে তাজুল ইসলামকে নিয়ে যায়। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আমরা তা জানি না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম তাজ দীর্ঘদিন ধরে মেঘনায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম তাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মানিকারচর ইউনিয়নের একাধিক কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় ইউপির একাধিক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী কর্মীদের বিরুদ্ধে।
তাছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তাজুলের নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনাও স্মরণীয় হয়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, তাজুল নিজ হাতে কয়েকজন ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছিলেন। তার অনুসারী কিছু ইউপি চেয়ারম্যান তখন হুমকি দিয়ে বলেছিলেন—
এ মেঘনায় বিম্পি-জামাতের কেউ থাকবে না, আন্দোলনে যারা জড়িত, তাদের মোবাইল-ফেসবুক দেখে ধরে ধরে এনে শায়েস্তা করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগষ্টের- পট পরিবর্তনের পরও কোন এক রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী তাজুল বহাল তবিয়তে থেকে উল্টো জুলাই আন্দোলনের অগ্রগামীদের হুমকিও দিয়ে এসেছে। সারাদেশের নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী সন্ত্রাসী ইউপি মেম্বাররাও যখন পলাতক, কেউ কেউ গ্রেফতার, অথচ তাজুল ইসলাম এক ঘন্টা ভিডিও বক্তৃতা রেকর্ড করে পদত্যাগ করে।
জুলাই বিপ্লবের পর এক জুলাই যোদ্ধা খুনি হাসিনাকে ‘মাফিয়া রাণি’ বলে সম্মোধন করে তার বিচার দাবি করলে সন্ত্রাসী তাজ জুলাই যোদ্ধাকে হুমকি দিয়ে বলে,
পোস্টকারী তুই জাতির কুলাঙ্গার বাংলাদেশের কুলাঙ্গার সন্তান তোর সাথে কোন আপোষ নাই তুই অপেক্ষা কর। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে কুরুচি পুণ্য কথা জাতিকে হতাশ করেছে।

জুলাই আন্দোলনের সময়কার আহতরা প্রকাশ্যে না বললেও, নীরবে তার গ্রেফতারকে ‘স্বস্তির বার্তা’ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর দাবি, কেবল তাজুল ইসলাম নয়—তার নেতৃত্বে যারা হামলায় অংশ নিয়েছিলো, সে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। তাদের ভাষায়,
তাজুলের গ্রেফতার শুরু মাত্র, যখন বিচার সম্পূর্ণ হবে , তখনই মেঘনা সন্ত্রাসমুক্ত হবে।
সবার দেশ/কেএম




























