ভোলায় বিএনপি–বিজেপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ২০
ভোলায় পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)–এর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শহরের নতুন বাজার এলাকায় প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি একটি মিছিল বের করে। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তারা দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। একই সময় জেলা বিএনপিও নিজ কার্যালয় থেকে মিছিল বের করে শহরের দিকে অগ্রসর হয়। দুই দলের মিছিল কাছাকাছি এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও হালকা আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। রড, লাঠি ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়িতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর করা হয় বেশ কিছু মোটরসাইকেল, গাড়ি এবং দোকানপাট। ছিঁড়ে ফেলা হয় উভয় দলের ব্যানার ও পোস্টার।
খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় আধাঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে সংঘর্ষের পরও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে নিরাপদে সরে যান।
ঘটনার পর বিএনপি ও বিজেপি উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে। জেলা বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ মিছিলের পথে বাধা দেয়ায় সংঘর্ষ বাধে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, বিএনপি তাদের কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে ও উসকানি দিয়েছে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে, যাতে পুনরায় সংঘর্ষ না ঘটে।
এলাকাবাসী বলছে, দুপুর পর্যন্ত নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রাতের দিকে বা পরদিন ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং উভয় দলের নেতাদের সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























