চোখ ভেজালো বাগাতিপাড়া পাইলট স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের
বাগাতিপাড়ায় ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়
নাটোরের বাগাতিপাড়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (টেকনিক্যাল) দিলীপ কুমার সরকারের অবসর বিদায় হয়ে উঠল এক আবেগঘন রাজকীয় উৎসব। দীর্ঘ ২৯ বছরের কর্মজীবন শেষে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি পৌঁছে দেন সহকর্মী শিক্ষক ও শত শত শিক্ষার্থী।
রোববার (২ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনীতা রানীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক টিপু সুলতান, শিক্ষক জয়নুল আবেদীন এবং কর্মচারীদের পক্ষে রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তখন এক আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছিলো।
অনুষ্ঠান শেষে ফুল, বেলুন ও ব্যানারে সাজানো একটি ঘোড়ার গাড়িতে করে দিলীপ কুমার সরকারকে তার বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িতে শিক্ষকের বসার জন্য রাখা হয়েছিলো নরম সোফা, আর তার গলায় পরানো হয় গাঁদা ফুলের মালা। গাড়িটি বিদ্যালয় থেকে যাত্রা করলে দুই পাশে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা হাত নাড়তে থাকে—কেউ হাসছে, কেউবা কাঁদছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম ফারুক পিন্টু বলেন,
আমরা চেয়েছি প্রিয় শিক্ষককে এমনভাবে বিদায় দিতে, যা শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকতার মর্যাদার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিদায়ী শিক্ষক দিলীপ কুমার সরকার বলেন,
অবসরে যাওয়ার আগে মনটা ভারাক্রান্ত ছিলো। কিন্তু সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসা পেয়ে আমি সত্যিই অভিভূত। শিক্ষক জীবনের এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কিছু হতে পারে না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনীতা রানী বলেন, দিলীপ স্যার ছিলেন পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। বিদায়ের কষ্ট লাঘব ও তার অবদানকে সম্মান জানাতে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিলীপ কুমার সরকার ১৯৯৬ সালের ২ মে বিদ্যালয়ে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর (বিল্ডিং অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) পদে যোগদান করেন। টানা ২৯ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর তিনি গত ৩০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান।
সেদিন বাগাতিপাড়ার পথে সে রাজকীয় ঘোড়ার গাড়ির ঘণ্টাধ্বনি যেন শিক্ষক–শিক্ষার্থীর বন্ধনের এক মর্মস্পর্শী প্রতিধ্বনি হয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























