Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৫১, ২৩ আগস্ট ২০২৫

সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের আত্মহত্যা নিয়ে পিনাকীর বিশ্লেষণ

সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের আত্মহত্যা নিয়ে পিনাকীর বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের আত্মহত্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক পিনাকি ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেখানে তিনি একদিকে শোক প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে এ ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

পিনাকী লিখেছেন, আমি বিভুদার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। এরপর তিনি উল্লেখ করেন, বিভুরঞ্জন ছিলেন তাদের ছাত্রজীবনের পরিচিত মুখ—কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। পিনাকীর ভাষায়, বিভুরঞ্জন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও ভারতের ঘনিষ্ঠ ন্যারেটিভকে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আওয়ামী লীগের শাসন ও ভারতের প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হবে।

কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আগমন এবং আওয়ামী লীগের পতনের পর বিভুরঞ্জনের সে ধারণা ভেঙে পড়ে। পিনাকীর দাবি, বিভুরঞ্জন বুঝে গিয়েছিলেন যে হারানো সে প্রভাব আর ফিরে আসবে না। এ ভাঙন এবং হতাশাই তাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়।

শেষ লেখা ও আত্মহত্যার ধাপ

পিনাকীর পোস্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে বিভুরঞ্জন একটি লেখা প্রস্তুত করেন, যার শিরোনাম ছিলো ‘খোলা চিঠি’। সেটি তিনি বিডিনিউজকে ই-মেইল করেন। ওই চিঠিতে তিনি তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সংকটের বিস্তারিত উল্লেখ করেন।

চিঠিতে উঠে আসে:

  • নিজের দীর্ঘদিনের অসুস্থতা
  • একমাত্র ছেলের অসুস্থতা
  • সরকারি চাকরিজীবী মেয়ের উচ্চতর পরীক্ষায় ব্যর্থতা
  • বুয়েট থেকে পাস করা ছেলের চাকরি না হওয়া
  • চরম আর্থিক সংকট

চিঠি পাঠানোর পর তিনি মোবাইল ফোন রেখে বেরিয়ে যান, যাতে তাকে ট্রেস করা না যায়। এরপর তিনি মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পিনাকীর সমালোচনা

পিনাকি অভিযোগ করেন, বিভুরঞ্জন জীবদ্দশায় যাদের জন্য কলম ধরেছেন, যাদের ন্যারেটিভকে সমর্থন করেছেন, তারা কেউ তার সংকটে পাশে আসেননি। বরং তারা বিলাসী জীবনে ব্যস্ত ছিলেন। তার ভাষায়, 

যাদের উদ্বাহু সার্ভিস দিয়েছেন, তারা কোলকাতায় হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করছেন, মৌজমাস্তি করছেন।

পিনাকি আরও বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যম এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। তারা প্রচার চালাবে যে একজন সংখ্যালঘু হিন্দু সাংবাদিককে অন্তর্বর্তী সরকার গুম বা হত্যা করেছে। এ বিষয়ে তিনি বিভুরঞ্জনের পরিবারকে সতর্ক করে দেন।

রাজনৈতিক বার্তা

পিনাকীর বক্তব্যের শেষ অংশে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, 

আমরা তাই ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের কথা বলি। নয়তো এভাবেই সব বাকশালিই হতাশার সাগরে ডুববেন। আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না, ভারতের তালুকদারিও ফিরবে না। কারণ বিপ্লব এখনো জিন্দা আছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন