প্রার্থী বদলে উত্তাল মনিরামপুর
দলীয় প্রার্থী ফিরে পেতে কাফনের কাপড় পরে বিএনপির বিক্ষোভ
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) আকস্মিকভাবে দলীয় প্রার্থী ও মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শহীদ ইকবাল হোসেনের পরিবর্তে জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয়ায় এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ ৩০ বছরের আক্ষেপ
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বিগত তিন দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে জোটের স্বার্থে এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় মনিরামপুর আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী নির্বাচনের সুযোগ পাননি। এবার দ্বিতীয় দফার ঘোষণায় শহীদ ইকবাল হোসেনকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লাস দেখা দিয়েছিলো। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি মাত্র ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তী বছরগুলোতে জেল-জুলুম সহ্য করেও মাঠের কর্মীদের পাশে ছিলেন। ফলে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের খবরে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
কাফনের কাপড় পরে রাজপথে কর্মীরা
বুধবার রাত থেকেই মনিরামপুর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলছে। বিক্ষুব্ধ অনেক নেতাকর্মীকে কাফনের কাপড় পরে রাজপথে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, শহীদ ইকবাল হোসেন দলমতের ঊর্ধ্বে এ এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে কারাগারের কর্মীদের শীতবস্ত্র পাঠানো—সব বিপদে তিনি ছিলেন ‘ভরসার নাম’। জোটের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে তারা বর্তমানে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
হাইকমান্ডের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন
মনোনয়নবঞ্চিত অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে ইতোমধ্যে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। কর্মীদের দাবি, এলাকায় তার ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। তাকে প্রার্থী করা হলে অন্তত ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়া সম্ভব। কিন্তু জোটের প্রার্থী দেওয়ার ফলে সংখ্যালঘু ভোটসহ বিশাল একটি অংশ হাতছাড়া হতে পারে বলে স্থানীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন।
স্বতন্ত্র নির্বাচনের হুঁশিয়ারি
বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দল যদি তাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা শহীদ ইকবাল হোসেনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে না দেয়, তবে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এ আবহে যশোরের এ আসনটিতে প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্ব মেটানো এখন কেন্দ্রীয় বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























